জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতের ইসলামি বক্তা জাকির নাইকের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। ওইসময় বেশ কয়েকটি জায়গায় তাঁর বক্তব্য রাখার কথা। এনিয়ে প্রস্তুতি চুড়ান্ত পর্যায়ে। এর মধ্যেই জাকির নাইকের বাংলাদেশ সফর সাময়িক স্থগিত করে দিল মহম্মদ ইউনূস সরকার।
মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে জাকির নাইকের সফর নিয়ে কথা হয়। তারপরই তার সফর আপতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ঢাকায় আলোচনা সভায় যোগ দেওয়ার কথা। এনিয়ে আপত্তি তুলেছে দেশের বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন। পাশাপাশি দেশের অন্য জায়গায় তাঁর যাওয়ার ব্যাপারেও তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলি।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই বৈঠকে, জাকির নাইকের সভায় প্রবল ভিড় হবে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজন। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তাকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে জাকির নাইকের সভায় অশান্তি হলে সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ফলে তার সফর ভোট শেষ হলেই বিবেচনা করা যেতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাকির নায়েকের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ৩০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘জাকির নায়েক ভারতের পলাতক আসামি। আমরা আশা করি, তিনি যেখানে যাবেন—সংশ্লিষ্ট দেশ আমাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় রাখবে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের এই মন্তব্যের জবাবে জানায়, তারা বিষয়টি নোট করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বিবৃতিটি লক্ষ্য করেছি।’
তবে তিনি পাল্টা মন্তব্যে ইঙ্গিত দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভারতসহ কোনো দেশই অন্য কোনো দেশের পলাতক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।’
জাকির নায়েক আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন—এমন খবর ঘিরে দেশ-বিদেশে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অর্থপাচার ও ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এই ধর্ম প্রচারককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো এবং তার সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
