Delhi Red Fort Blast: কাশ্মীরের হাসপাতালে রোগী মেরেছিল, চাকরি চলে যায়! রাজধানীকে রক্তে ভেজানো ডা. উমর কি বরাবরই খুনি? মারাত্মক তথ্য…

Delhi Red Fort Blast: কাশ্মীরের হাসপাতালে রোগী মেরেছিল, চাকরি চলে যায়! রাজধানীকে রক্তে ভেজানো ডা. উমর কি বরাবরই খুনি? মারাত্মক তথ্য…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লির লাল কেল্লার বিস্ফোরণ ভাবাচ্ছে একজন জীবনদাতা ডাক্তার থেকে জীবন কেড়ে নেওয়া সন্ত্রাসীর পথে হাঁটলেন মূল অভিযুক্ত ডাক্তার উমর উন নবি। যার গাড়িতে বিস্ফোরণের পরেই প্রায় ১৩ প্রাণ ছিন্নভিন্ন হয়েছে, নাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের রাজধানীকে।

তবে, আইকনিক লাল কেল্লার সামনের ব্যস্ত রাস্তায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণটি কেবল রাজধানী নয়, সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সবাই উদ্বেগ হয়ে মোবাইল বা টিভি স্ক্রিনে চোখ রেখেছিলেন—বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়িটির চালক কে, তা জানতে।

আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ডা. উমর উন নবির ছবি প্রচার করে, যাকে গাড়িটির চালক বলে মনে করা হচ্ছে এবং বিস্ফোরণে যার শরীরও ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই কাশ্মীরে নবির পরিবারের সদস্যদের আটক করেছে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই নমুনাগুলি বিস্ফোরণস্থলের ডিএনএ-এর সঙ্গে মিলিয়ে চালকের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

অভিযুক্ত মহম্মদ উমর নবি

ফ্যাশনেবল বাজ-কাট চুল, পরিপাটি করে ছাঁটা দাড়ি এবং স্বচ্ছ ফ্রেমের চশমা পরা ডা. উমর নবির এই ছবিটি দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন যে, একজন ডাক্তার, যার জীবন বাঁচানোর কথা, তিনিই কিনা দিল্লিতে এতগুলো মানুষকে ক্ষতবিক্ষত করলেন এবং এই কমপক্ষে ১২ জনকে হত্যা করলেন।

কর্মক্ষেত্রে অবহেলা: রোগীর মৃত্যু ও বরখাস্ত

ডা. উমর নবিকে অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ থেকে বরখাস্তের সুপারিশকারী চারজনের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ডা. গোলাম জিলানি রোমশু। এর কারণ ছিল এক রোগীর মৃত্যু।

কী হয়েছিল ২০০৩-এ?

ঘটনাটি ২০২৩ সালের। নবি তখন শ্রীনগর থেকে এমবিবিএস এবং এমডি ডিগ্রি অর্জনের পর গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে একজন সিনিয়র রেসিডেন্ট (এসআর) হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি তিন বছরের রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের জন্য অনন্তনাগে এসেছিলেন, যেখানে জেনারেল মেডিসিন বিভাগে ডা. জিলানি ছিলেন তার ঊর্ধ্বতন। কিন্তু নবি কর্মক্ষেত্রে অযোগ্য প্রমাণিত হন।

অভিযোগ: 

শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হতে শুরু করে। সহকর্মী ডাক্তার, প্যারামেডিকেল স্টাফ এবং এমনকি রোগীরাও অভিযোগ করেন যে ডা. উমর নবি শুধু রুক্ষ বা অমনোযোগীই নন, প্রায়শই হাসপাতাল থেকে অনুপস্থিত থাকতেন।

অনুপস্থিতি, মিথ্যা এবং বরখাস্ত

গুরুতর অবস্থায় থাকা ওই রোগীটি নবির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। কিন্তু একদিন কর্তব্যরত থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার নবি হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে যান। এদিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেখানে উপস্থিত একজন জুনিয়র ডাক্তার তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। রোগীটি মারা যান।

কর্তব্যে অবহেলা: 

রোগীর পরিবার নবির বিরুদ্ধে হাসপাতালের মেডিকেল সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। এরপরে, ডা. জিলানিসহ চারজন সিনিয়র ডাক্তারকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের আরও তিনজন সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন: ডা. মুহাম্মদ ইকবাল (মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট), ডা. মুমতাজ উদ দিন ওয়ানি (জেনারেল সার্জারির অধ্যাপক), এবং ডা. সঞ্জীত সিং রিসাম (ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের প্রধান)। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনজনই এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

ডা. জিলানির মতে, নবি সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন যে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তার মিথ্যা ধরে ফেলে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, ডা. জিলানি জানান, তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার তলব করা সত্ত্বেও নবি কমিটিতে উপস্থিত হননি। অবশেষে, কমিটি তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করে এবং এরপরেই তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।

পরিবারের দাবি

১১ নভেম্বরের দিল্লি বিস্ফোরণের পর ডা. নবির বৌদি মুজামিলা সাংবাদিকদের যা বলেছিলেন, এই তথ্য তার বিপরীত। তার মতে, নবি সবসময়ই অন্তর্মুখী ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময় নিজের ঘরে পড়াশোনা নিয়ে থাকতেন। কিন্তু ডা. জিলানি জানান যে নবির অবহেলার কারণেই সরকারি হাসপাতালে একজন রোগীর জীবন গিয়েছিল।

সূত্র অনুসারে, অনন্তনাগের হাসপাতাল থেকে বহিষ্কারের পর ডা. উমর উন নবি ২০২৩ সালে ফরিদাবাদের আল-ফালা স্কুল অফ মেডিকেল সায়েন্সে যোগ দেন। এই ডাক্তার কী ভাবে একজন জীবনদাতার ভূমিকা থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার সহায়ক বা চক্রে পরিণত হলেন, তা আরও তদন্তের পরেই প্রকাশ পাবে।

(Feed Source: zeenews.com)