)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বর্তমান সময় ডায়াবেটিস এখন আর শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয় বরং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক মহামারী বলা যেতে পারে। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিল কলকাতার মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস। সেখানে উপস্তিত ছিলেন অলিম্পিক জয়ী জয়দের করমোকর।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শহর ও গ্রামাঞ্চলে দ্রুত হারে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ এই রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

চিকিৎসক সুজয় ঘোষ জানালেন,’ পশ্চিমবঙ্গে ১১ কটি জনগনের মধ্যে শুধু ৬ কটি বাচ্চার ডায়াবেটিস আছে এবং প্রতি ১০ মানুসের মধ্যে ৬ জনের ডায়াবেটিস আছে আর ৪ জন প্রি ডায়াবেটিসের শিকার’। তিনি আরও জানান, ‘বর্তমান সময় যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ছে ৭০ ৪০ বছরের নিচে তাদের বয়স’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চিফ মেডিকেল কনসালট্যান্ট ডা. সুভাষীশ দাস বলেন, ‘ডায়াবেটিস আমাদের দেশে মহামারীর রূপ নিচ্ছে। আমরা কেবল চিকিৎসা দিয়েই এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না, এর জন্য প্রয়োজন সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতার প্রচার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে খাদ্যাভ্যাস ও পরিশ্রমের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত করা দরকার।’ তিনি আরও যোগ করেন, নিয়মিত পরীক্ষা, বিশেষত ৩০ বছর বয়সের পর বছরে অন্তত একবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যেখানে ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য একই ছাদের নিচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডায়েটিশিয়ান, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং কাউন্সেলরদের সুবিধা পাওয়া যায়।
মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস-এর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো – রোগীরা যাতে শুধু চিকিৎসকের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই নিজেদের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে পারেন। সচেতনতা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমেই এই নীরব ঘাতককে প্রতিহত করা সম্ভব, এই বার্তাই এদিন স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো কলকাতার চিকিৎসক মহলের পক্ষ থেকে।
(Feed Source: zeenews.com)
