
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্ত্রীকে খুন করে ‘আত্মহত্যা’ প্রমাণের চেষ্টা! দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লিখল ‘স্বামী নির্দোষ’, শেষমেশ ধরা পড়ল প্রয়াগরাজের যুবক
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার পর সেই অপরাধ ঢাকতে স্বামী তাকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী রোহিত দ্বিবেদীকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং জেরায় তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবতীর নাম সুষমা দ্বিবেদী। প্রয়াগরাজে একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামী রোহিত দ্বিবেদীর সঙ্গে তিনি থাকতেন। গত শুক্রবার বিকেলে ঘর থেকে সুষমার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই দিন বিকেলে রোহিতের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দেখেন সুষমা মেঝেতে পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিসে খবর দেওয়া হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতীর গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল। শুধু তা-ই নয়, অস্ত্রটি তখনও তাঁর গলায় বিঁধে ছিল। সঙ্গে দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল, ‘আমি পাগল। আমার স্বামী নির্দোষ।’
পুলিস জানায়, সুষমার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপ ছিল এবং অস্ত্রটি তখনও তাঁর গলাতেই বিঁধে ছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘরের দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল: ‘আমি পাগল। আমার স্বামী নির্দোষ।’
পুলিশের সন্দেহ ও গ্রেফতার
প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, তদন্তকারীদের দ্রুত সন্দেহ হয়।
১. দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা থাকলেও মৃত সুষমার হাতে রক্তের কোনও চিহ্ন ছিল না।
২. স্বামী রোহিত দ্বিবেদীর কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
এর পরেই পুলিস রোহিতকে আটক করে জেরা শুরু করে। পুলিসের কড়া জেরার মুখে ওই যুবক স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকার করেন।
খুনের কারণ
পুলিসের দাবি, জেরায় রোহিত জানিয়েছেন যে, ২০২০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না। এই নিঃসন্তান হওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত এবং তাঁদের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। এই দাম্পত্য কলহ ও বনিবনা না হওয়ার কারণেই রাগের বশে তিনি স্ত্রীকে খুন করেন এবং তারপর নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য স্ত্রীকে খুন করে দেওয়ালে রক্ত দিয়ে ‘আত্মহত্যা’র নাটক সাজান।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রয়াগরাজ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
