Stomach Cancer: গ্যাস বা অম্বল ভেবে অবহেলা করবেন না, পাকস্থলীর ক্যানসার হতে পারে! ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ রুখবেন কী ভাবে…

Stomach Cancer: গ্যাস বা অম্বল ভেবে অবহেলা করবেন না, পাকস্থলীর ক্যানসার হতে পারে! ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ রুখবেন কী ভাবে…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পেটের সামান্য গোলমাল বা অম্বল ভেবে অনেকেই দিনের পর দিন যে সব সমস্যাকে অবহেলা করেন, আদতে সেটাই হয়তো বড় বিপদের ইঙ্গিত। পাকস্থলীর ক্যানসার বা ‘স্টমাক ক্যানসার’-এর মতো ‘সাইলেন্ট কিলার’-কে প্রাথমিক পর্যায়েই রুখে দিতে এ বার বিশেষ কর্মসূচি নিল অ্যাপোলো ক্যানসার সেন্টার (এসিসি)। বুধবার কলকাতায় চালু হল তাদের ‘সেভ মাই স্টমাক’ (এসএমএস) বা পাকস্থলী বাঁচানোর বিশেষ অভিযান ।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে পাকস্থলীর ক্যানসার পঞ্চম স্থানে। ভারতে এই মারণ রোগ রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে । চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলছে পূর্ব ভারতের ছবিটা। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের এই প্রান্তে পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রবণতা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি (প্রায় ৭০ শতাংশ)। মিজোরাম বা কাশ্মীরের মতো রাজ্যে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে এই রোগের অনুপাত যথাক্রমে ২.৩:১ এবং ৩.৩:১ ।

কেন এই উদ্যোগ? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি যখন ধরা পড়ে, তখন অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। অথচ সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করালে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। অ্যাপোলোর এই ‘এসএমএস’ কর্মসূচির লক্ষ্য হল, মূলত ষাটোর্ধ্ব পুরুষ, যাঁরা দীর্ঘ দিন গ্যাস্ট্রিক, এইচ পাইলোরি (H. pylori) সংক্রমণ বা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন—তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা। এ ছাড়া যাঁরা ধূমপানে আসক্ত, ওবেসিটি রয়েছে কিংবা নিয়মিত অত্যধিক নুন ও মশলাদার খাবার বা আচার খেতে অভ্যস্ত, তাঁরাও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন ।

অ্যাপোলো ক্যানসার সেন্টার, কলকাতার সার্জিক্যাল অঙ্কোলজি এবং রোবোটিক সার্জন ডা. সুপ্রতিম ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে বুক জ্বালা, বদহজম বা অকারণে পেট ফোলার মতো লক্ষণগুলি আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। অথচ এগুলোই ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। সাধারণ একটি এন্ডোস্কোপি করলেই প্রাথমিক ধাপে রোগ ধরা সম্ভব, যখন চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’’

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বায়োপসির গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেন হাসপাতালের অঙ্কো-হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগের ডা. সঞ্জীবন পাত্র। তিনি বলেন, ‘‘সঠিক টিস্যু ডায়াগনসিস বা রোগ নির্ণয়ই আসল। বায়োপসিতে সামান্যতম অসঙ্গতিও ভবিষ্যতে বড় রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নির্ভুল পরীক্ষার ওপরেই জোর দিচ্ছি।’’

দেরিতে রোগ ধরা পড়লে যে চিকিৎসার সুযোগ কমে যায়, সে কথা মনে করিয়ে দেন গ্যাস্ট্রোএনটেরলজিস্ট ডা. রজত খন্ডেলওয়াল। তাঁর কথায়, ‘‘প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক সময় কেমোথেরাপি ছাড়াই শুধু অস্ত্রোপচারে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। এতে রোগীর জীবনের গুণমান যেমন বজায় থাকে, তেমনই কমে চিকিৎসার জটিলতা।’’

অ্যাপোলো ক্যানসার সেন্টার, কলকাতার ডিরেক্টর (মেডিক্যাল সার্ভিসেস) ডা. সুরিন্দর সিংহ ভাটিয়া বলেন, ‘‘সাধারণ পেটের সমস্যার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এই রোগ। আমাদের লক্ষ্য মানুষকে সচেতন করা, যাতে তাঁরা সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং করান।’’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশা, এই কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং প্রাথমিক স্তরে রোগ নির্ণয় হওয়ার ফলে বড় অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার আর্থিক বোঝা ও শারীরিক ধকল—দু’টিই কমবে।

(Feed Source: zeenews.com)