বিদেশ গেলেন মোদি, সমস্যা তৈরি করলেন ট্রাম্প, G20 সামিটে প্রধানমন্ত্রীর এজেন্ডায় বিশ্বের নজর, ট্রাম্পের অনুপস্থিতিতে G20 ব্যাটন কে ধরবে?

বিদেশ গেলেন মোদি, সমস্যা তৈরি করলেন ট্রাম্প, G20 সামিটে প্রধানমন্ত্রীর এজেন্ডায় বিশ্বের নজর, ট্রাম্পের অনুপস্থিতিতে G20 ব্যাটন কে ধরবে?

এবারের G-20 সম্মেলন নানা দিক থেকে ঐতিহাসিক। এই গ্লোবাল ফোরাম আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো জড়ো হচ্ছে এবং এটি কেবল ভৌগলিক নয়, আদর্শগত পরিবর্তনেরও প্রতীক। “গ্লোবাল সাউথ” এর দেশগুলির টানা চতুর্থ হোস্টিং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে উত্তর থেকে দক্ষিণে সরে যাচ্ছে। জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শুধুমাত্র একটি আয়োজক শহর নয়, উদীয়মান বিশ্ব ব্যবস্থার মঞ্চও হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দায়ী করে সেখানে অনুষ্ঠিতব্য জি-টোয়েন্টি সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদি দেখা যায়, এটি আমেরিকান বৈদেশিক নীতির প্রবণতার একটি অংশ যেখানে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান থেকে দূরত্ব এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে চাপ দিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। যদি এটি ঘটে তবে এটি শুধুমাত্র G-20 এর সমষ্টির চেতনাকেই দুর্বল করবে না বরং আমেরিকার নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করবে যখন সে নিজেই আগামী বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
এই প্রশ্নটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে আমেরিকা যখন সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে না, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা কার হাতে জি-টোয়েন্টির লাঠিসোটা তুলে দেবে? ঐতিহ্যগতভাবে এই কাজটি চেয়ারপারসনের দেশ থেকে প্রতীকী পদ্ধতিতে পরবর্তী হোস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই পরিস্থিতি তাই নজিরবিহীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও বটে।
জানিয়ে রাখি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সম্মেলনে অংশ নিতে চলেছেন। আমেরিকার অনুপস্থিতি ভারতের জন্য এক অনন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে। 2023 সালে সফলভাবে G-20 আয়োজনের মাধ্যমে, ভারত শুধুমাত্র সংগঠনের দিকনির্দেশই নির্ধারণ করেনি বরং “এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যত” এর আদর্শও উপস্থাপন করেছে, যা আজ সমগ্র বিশ্বের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। এখন দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে ভারত সেই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
আসুন আমরা আপনাকে বলি যে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘোষণা করার সময়, স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তিনি তিনটি অধিবেশনেই বক্তব্য দেবেন – যার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত এবং ভারসাম্যপূর্ণ ভবিষ্যত। এই তিনটি বিষয়ই ভারতের নীতিগত অগ্রাধিকারের সাথে মিলে যায়।
আমরা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিই যে ভারত তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এখন দক্ষিণ আফ্রিকা একই এজেন্ডা অনুসরণ করছে—এটি ভারতের উদ্যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একইভাবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ভারত যে সংলাপ শুরু করেছে তাও দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্রাধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এভাবে উভয় দেশের নীতিগত সঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।
আমরা আপনাকে বলি যে জোহানেসবার্গ সম্মেলন হল গ্লোবাল সাউথের চারটি উদীয়মান দেশ – ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ধারাবাহিক সভাপতির সিরিজের শেষ পর্ব। একসঙ্গে, এই চারটি দেশ উন্নয়নশীল বিশ্বের উদ্বেগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে যেমন ঋণ সংকট, জ্বালানি পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। এই ক্রমটি দেখায় যে G-20 এর চরিত্রটি আর কেবল উন্নত অর্থনীতির একটি ক্লাব নয়, তবে এটি দক্ষিণ গোলার্ধের আকাঙ্ক্ষার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে।
“গ্লোবাল সাউথ” শব্দটি ভূ-রাজনৈতিক হতে পারে, কিন্তু এর আবেগগত অর্থ অনেক বিস্তৃত। এটা সেইসব দেশের সম্মিলিত আকাঙ্খা যারা আর ‘অংশগ্রহণকারী’ কিন্তু ‘নির্ধারক’ ভূমিকা পালন করতে চায় না। নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে এবং কূটনৈতিক সক্রিয়তার মাধ্যমে ভারত এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
আমরা আপনাকে আরও জানাই যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকেও বিশ্ব নজর রাখবে। বিশেষ করে আফ্রিকার সাথে ভারতের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে, এই সম্মেলন ভারত-আফ্রিকা অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। উপরন্তু, ভারত-ব্রাজিল-দক্ষিণ আফ্রিকা (আইবিএসএ) ত্রিপক্ষীয় গোষ্ঠী বৈঠকে মোদির অংশগ্রহণও দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে। ভারত এই সুযোগটি শুধুমাত্র তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করতে পারে না, বরং এটাও দেখাতে পারে যে বৈশ্বিক নেতৃত্ব কেবল সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি থেকে আসে না, বিশ্ব সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা থেকে আসে।
যাইহোক, জোহানেসবার্গে এই শীর্ষ সম্মেলন দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি কূটনৈতিক পরীক্ষা – এটি মার্কিন অনুপস্থিতির চ্যালেঞ্জের মধ্যে সফলভাবে শীর্ষ সম্মেলন শেষ করতে হবে। এটি ভারতের জন্য তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা দেখানোর একটি সুযোগ। ট্রাম্প যখন বৈশ্বিক সহযোগিতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন, মোদি একই সহযোগিতার নতুন দিক নির্দেশনা দিতে চলেছেন। এই বৈপরীত্যই আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সারমর্ম। অতএব, জোহানেসবার্গ সম্মেলন শুধু একটি G-20 ইভেন্ট নয়, বিশ্বব্যবস্থার পুনঃভারসাম্যের প্রতীক এবং এই পুনঃভারসাম্যে ভারতের ভূমিকা শুধু কেন্দ্রীয়ই নয়, অনুপ্রেরণাদায়কও।
(Feed Source: prabhasakshi.com)