)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের তদন্তে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ ছিল না। বরং এটি ছিল সিরিয়াল বিস্ফোরণের পরিকল্পনার অংশ। এই হামলার চক্রান্ত ২০১৯ সাল থেকেই চলছিল এবং জৈশ-এ-মোহাম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত এই ‘হোয়াইট-কলার মডিউল’টি হামলাটি চালিয়েছিল।
সংবাদমাধ্য়মের খবর অনুযায়ী, জেরার সময় অভিযুক্ত ডা মুজাম্মিল শাকিল স্বীকার করেছে, গত দুই বছর ধরে বিস্ফোরক এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সে কিনছিল। তার কাজ ছিল ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী সংগ্রহ করা। মুজাম্মিল ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে গুরুগ্রাম এবং নূহ থেকে ২৬ কুইন্টাল এনপিকে (NPK) সার কিনেছিল। এছাড়াও, নূহ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র এবং ফরিদাবাদ থেকে তার, রিমোট ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। রাসায়নিক সংরক্ষণের জন্য সে একটি ডিপ ফ্রিজারও কিনেছিল। এদিকে, তার সহযোগী এবং আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী উমর মোহাম্মদ সারগুলিকে প্রক্রিয়াজাত করে এবং রাসায়নিক মেশানোর কাজ করত। তদন্তে ইউরিয়া গুঁড়ো করার জন্য ব্যবহৃত একটি ফ্লাওয়ার মিলও (আটা কল) উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে যে এই পুরো সন্ত্রাসী চক্রান্তে কোনো বহিরাগতর টাকায় হয়নি, বরং মডিউলের সদস্যরা নিজেরাই ২.৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। উমর ২ লক্ষ টাকা, মুজাম্মিল ৫ লক্ষ টাকা, আদিল রাদার ৮ লক্ষ টাকা, মুজাফফর ৬ লক্ষ টাকা এবং লখনউয়ের শাইন সাইদ ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে টাকা নিয়ে মুজাফফর ও উমরের মধ্যে একটি ঝগড়া হয়েছিল। পরে উমর তার লাল রঙের ইকোস্পোর্ট (EcoSport) গাড়িটি মুজাফফরকে দেয়, যা পরে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণে উমর নিহত হয়।
মুজাফফর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। সে ৬.৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি একে-৪৭ (AK-47) কিনেছিল, যা পরে আদিল রাদারের লকার থেকে উদ্ধার করা হয়। সে আরও জানিয়েছে যে তাদের হ্যান্ডলার ছিল দুজন—তার হ্যান্ডলার মনসুর এবং উমরের হ্যান্ডলার হাশিম। এই দুজনই ইব্রাহিমের নির্দেশে কাজ করছিল। আরও তিনজন অভিযুক্ত—মুজাফফর, উমর এবং আদিল—তুরস্ক (Turkiye) ভ্রমণ করেছিল। তারা সেখান থেকে আফগানিস্তান পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু টিটিপি (TTP)-এর সাথে যুক্ত ওকাসা নামে এক ব্যক্তি শেষ মুহূর্তে তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দেয়।
(Feed Source: zeenews.com)
