জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বের দ্রুততম মানুষ উসেইন বোল্টের ব্যক্তিগত রেকর্ড ও ক্রীড়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের কেন্দ্রস্থল ‘ট্র্যাকস অ্যান্ড রেকর্ডস’ রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জ্যামাইকা জুড়ে। কিংস্টনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই জনপ্রিয় রেস্তোরাঁটি শুধু খাবারের জন্য নয়, বোল্টের ক্রীড়াজীবনের নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্যও বিখ্যাত।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎই রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে রেস্তোরাঁর একাংশ ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। যদিও, সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। উসেইন বোল্ট নিজেও এই ঘটনার বিষয়ে অবগত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর টিম জানিয়েছে, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করছি। বোল্ট এই রেস্তোরাঁর প্রতি আবেগপ্রবণ, কারণ এটি তাঁর ক্রীড়াজীবনের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে।’
‘ট্র্যাকস অ্যান্ড রেকর্ডস’ রেস্তোরাঁটি ২০১১ সালে চালু হয়। এটি কেবলমাত্র একটি খাবারের জায়গা নয়, বরং একপ্রকার জ্যামাইকান ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রদর্শনী কেন্দ্র। এখানে বোল্টের অলিম্পিক পদক, স্পাইক, ট্র্যাকস্যুট, এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার স্মারক প্রদর্শিত হয়। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডে ক্রীড়া ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বোল্টের ভক্তরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘উসেইনের স্মৃতিচিহ্নগুলো যেন রক্ষা পায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।’ আবার কেউ কেউ রেস্তোরাঁ পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সাহায্যের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
জ্যামাইকার ক্রীড়ামন্ত্রী ওয়েনি ম্যাকিনটশ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উসেইন বোল্ট আমাদের জাতীয় গর্ব। তাঁর কৃতিত্বের স্মারক সংরক্ষণের জন্য সরকার প্রয়োজনে সবরকম সহায়তা করবে।’ তিনি আরও জানান, রেস্তোরাঁটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বোল্টের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, তিনি এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত হলেও আশাবাদী যে রেস্তোরাঁটি আবার আগের মতো গড়ে তোলা যাবে। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেন, ‘উসেইন সবসময়ই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে আরও উন্নত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনবে।
উসেইন বোল্টের ‘ট্র্যাকস অ্যান্ড রেকর্ডস’ শুধু একটি রেস্তোরাঁ নয়, বরং জ্যামাইকার ক্রীড়া ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। এই অগ্নিকাণ্ড সেই ইতিহাসে এক দুঃখজনক অধ্যায় হয়ে রইল। তবে আশা করা য়ায়, বোল্টের মতো লড়াকু মানুষ নিশ্চয়ই আবার নতুন করে শুরু করবেন আরও বড় করে, আরও গর্বের সঙ্গে।
(Feed Source: zeenews.com)
