
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লখনউ অর্থাৎ প্রাচীন অওধ – এবার পেয়েছে আন্তর্জাতিক গৌরব। UNESCO Creative City of Gastronomy সম্মানে ভূষিত হয়েছে শহরটি। আর এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে পূর্ব ভারতের প্রথম পিরিয়ড ডাইনিং রেস্তোরাঁ অওধ ১৫৯০ (Oudh 1590) আয়োজন করল এক বিশেষ আলোচনা সভা, যেখানে মিলিত হলেন ইতিহাস, চলচ্চিত্র ও রন্ধনশিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

সল্টলেকের Oudh 1590-তে আয়োজিত এই অন্তরঙ্গ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আলিপুর জেল মিউজিয়ামের ডিরেক্টর ও ইতিহাসবিদ জয়ন্ত সেনগুপ্ত, খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিম ডি গুপ্ত, এবং Oudh 1590-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিলাদিত্য চৌধুরি ও দেবাদিত্য চৌধুরি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জয়ন্ত সেনগুপ্ত।
জয়ন্ত সেনগুপ্ত লখনউয়ের বহুস্তরীয় ইতিহাস তুলে ধরেন – নবাব আমলের সংস্কৃতি, আদালতের পরিশীলিত রুচি, রান্না, স্থাপত্য, সংগীত, সাহিত্য থেকে শুরু করে রাজকীয় অতিথিপরায়ণতা – সবকিছুরই ছবি ফুটে ওঠে তাঁর বয়ানে। তিনি জানান, ‘শতাব্দী ধরে নানা সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে আওধি রন্ধনশৈলী, যা আজও বিশ্বের অন্যতম সূক্ষ্ম gastronomic tradition।’
পরিচালক প্রতিম ডি গুপ্ত বলেন, লখনউয়ের ‘তহজিব’, গল্প ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ভারতীয় সিনেমায় যে গভীর ছাপ ফেলেছে, তা আজও অটুট। আওধের বিনয়ী সৌন্দর্য, কবিত্ব, সাংস্কৃতি – সবই বারবার ফিরে আসে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভাষা ও ভিজ্যুয়ালে। তাঁর বক্তব্য সন্ধ্যার আলোচনায় এক সমকালীন সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করে।
শিলাদিত্য ও দেবাদিত্য চৌধুরি বলেন, লখনউয়ের এই আন্তর্জাতিক সম্মান তাদের রেস্তোরাঁর দশ বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাঁদের মেনু, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে খাবারের নকশা – সবই তৈরি হয়েছে এক উদ্দেশ্যে: অওধের প্রাচীন রন্ধনঐতিহ্যকে সত্যিকারের স্বাদ, আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা।
তাঁরা আরও জানান, ‘UNESCO-র এই স্বীকৃতি শুধু লখনউয়ের নয়, বরং প্রত্যেক মানুষের, যিনি আওধের রন্ধনসংস্কৃতিকে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’
আলোচনা শেষে অতিথিরা ভাগ করে নেন নিজেদের অনুভূতি। খাবার, ইতিহাস ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয় এক উষ্ণ পরিবেশ। সবার কথায় উঠে আসে – লখনউয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও তার gastronomic excellence আজ বিশ্বমঞ্চে নিজের উপযুক্ত স্থান পেয়েছে।
Oudh 1590 তৈরি হয়েছে যত্রতত্র রান্না নয়, বরং ১৬শ শতকের ভারতীয় ‘পিরিয়ড ডাইনিং’ অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আধুনিক লখনউয়ের রন্ধনঐতিহ্যের ওপর দীর্ঘ গবেষণা, অভিজ্ঞ বাবুর্চিদের স্পর্শ ও খাঁটি অওধি রেসিপির মাধ্যমে কলকাতার নানা প্রান্তে বিস্তারিত তাদের আউটলেট এখন শহরের গর্ব।
(Feed Source: zeenews.com)
