Dr. Subhash Chandra: ‘লক্ষ্যে পৌঁছনই আসল উদ্দেশ্যে’- ভারতীয় টেলিভিশনের মানচিত্র পালটে দেওয়া ড. সুভাষ চন্দ্রের জীরনের মূলমন্ত্র…

Dr. Subhash Chandra: ‘লক্ষ্যে পৌঁছনই আসল উদ্দেশ্যে’- ভারতীয় টেলিভিশনের মানচিত্র পালটে দেওয়া ড. সুভাষ চন্দ্রের জীরনের মূলমন্ত্র…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের প্রথম প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেল জি-এর প্রতিষ্ঠাতা ডঃ সুভাষ চন্দ্র আজ ৭৫ বছরে পা দিলেন। ১৯৫০ সালের ৩০ নভেম্বর পাঞ্জাবের (বর্তমানে হরিয়ানা) আদমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই ১৯৯২ সালে শুরু হয় জি টিভির যাত্রা, যা ভারতীয় মিডিয়া জগতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল।

ডঃ সুভাষ চন্দ্র যখন জি টিভি শুরু করেন, তখন ভারতের টেলিভিশন জগৎ ছিল মূলত দূরদর্শনের দখলে। সেই একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি গড়ে তুললেন একটি নতুন দিগন্ত। জি টিভি শুধু একটি চ্যানেল নয়, এটি ছিল ভারতীয় বিনোদনের নতুন ভাষা। আজ জি নেটওয়ার্কের অধীনে ৯০টিরও বেশি চ্যানেল, ১৯০টি দেশে সম্প্রচার, এবং ১.৩ বিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছনোর ক্ষমতা।

শুধু তাই নয়, ডঃ সুভাষ চন্দ্র অবদানের স্বীকৃতি এসেছে বহুবার। ১৯৯৯ সালে ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ তাঁকে ‘বিজনেসম্যান অফ দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত করে। একই বছরে Ernst & Young তাঁকে ‘এন্টারপ্রেনিয়র অফ দ্য ইয়ার’ এবং International Brand Summit তাঁকে ‘এন্টারপ্রাইজ CEO অফ দ্য ইয়ার’ সম্মান দেয়। ২০০৪ সালে FICCI তাঁকে ‘গ্লোবাল ইন্ডিয়ান এন্টারটেনমেন্ট পার্সোনালিটি অফ দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করে।

এক সাক্ষাৎকারে ড. চন্দ্র নিজেই বলেন, ‘১৯৮৩ পর্যন্ত আমি দিল্লিতে ছিলাম। সেখানে ব্যবসার ভাষা ছিল হিন্দি। কিন্তু মুম্বইয়ে এসে দেখি, ব্যবসার ভাষা শুধুই ইংরেজি। আমি তো ইংরেজি জানতাম না। যা পারতাম, তাই বলতাম। অনেকে হাসত, কিন্তু আমি কখনও লজ্জা পাইনি। কারণ আমি জানতাম, এটা আমার মাতৃভাষা নয়। ভুল হলে হোক, কথা পৌঁছনই আসল।’

এই মনোভাবই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভাষার সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তির অভাব, এবং প্রতিযোগিতার চাপে থেকেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর মতে, ‘আইডিয়া স্পষ্ট থাকলে, ভাষা বাধা নয়।’

ডঃ চন্দ্রার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল খাদ্যশস্য সংরক্ষণের চুক্তি দিয়ে। ১৯৮৩ সালে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে একটি বড় চুক্তি তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে Essel Group যার অধীনে জি মিডিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, লাইভ ইভেন্টস এবং আরও অনেক কিছু।

৭৫ বছর পূর্তিতে ডঃ চন্দ্র বলেন, ‘যদি আমি আজ ৩০ বছরের হতাম, তাহলে শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করতাম না, বরং AI-ভিত্তিক কনটেন্ট, পার্সোনালাইজড স্টোরিটেলিং এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটির দুনিয়া তৈরি করতাম।’ তাঁর ভবিষ্যত ভাবনা আজও তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দেয়।

ডঃ সুভাষ চন্দ্র ভারতীয় মিডিয়ার ইতিহাসের অন্যতম নির্মাতা। তাঁর জন্মদিনে গোটা দেশ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় সাহস, আত্মবিশ্বাস, এবং নতুন ভাবনার শক্তি থাকলে, অসম্ভব কিছুই নয়।

(Feed Source: zeenews.com)