
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিয়ের রাতে নববধূ আলো জ্বালানোর জন্য একটি বাল্ব (Bride asks for bulb on wedding night) চাইলেন বরের কাছে! এতে বিচলিত বর সহসা উধাও হয়ে গেলেন! পাঁচ দিন পর বরকে খুঁজে পাওয়া গেল। কীভাবে? কোথায়? জীবিত, না, মৃত? কী ঘটেছিল? এক ঘোর রহস্য।
মানসিক চাপ?
উত্তর প্রদেশের মিরাটে পাঁচ দিন ধরে চলা একটি অনুসন্ধানের অবসান ঘটল এক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে। বিয়ের রাতে নিখোঁজ হওয়া বরকে হরিদ্বারে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তিনি নিরাপদেই আছেন। তাঁর পরিবার, যাঁরা সবচেয়ে খারাপ কিছু আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁদের জানানো হল যে, তিনি মানসিক চাপের কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
বাল্ব কিনতে বেরোলেন বর
পাঁচদিন আগে মুজফ্ফরনগরে মহসিনের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের রাতে তিনি নববধূর ঘরে যান। যেখানে আগে থেকেই তাঁর অপেক্ষা করছিলেন কনে। সেই ঘরে বর প্রবেশ করলে, কনে বরের কাছে অনুযোগ করেন যে, এ ঘরে আলো খুব উজ্জ্বল, একটা কমজোরি বাল্ব বলে ভালো হয়। নববধূ তাঁকে একটি ছোট বাল্ব আনতে বলেন। মহসিন বাল্ব আনতে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
সুখ থেকে শোক
কিন্তু বর আর ফিরলেনই না! শুধু সেই রাতে নয়, বা তার পরের দিনে নয়, তিনি পরপর কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ থাকলেন! অবিশ্বাস্য একটা অভিজ্ঞতা! ওদিকে, ঘটনার দিনে সারা রাত ধরে নববধূ এবং মহসিনের পরিবার তাঁর অপেক্ষা করতে থাকেন। তাঁদের আশা যে, মহসিন হয়তো ঠিক ফিরে আসবেন। কিন্তু আসেন না! পরের দিন সকালে মহসিনের দুই বোনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। মহসিনের কোনো খোঁজ না মেলায় তাঁর বাড়িতে চরম আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়। শুভ অনুষ্ঠান আর কী করে হবে? আত্মীয়-স্বজনরা জানান, উৎসবের পরিবেশ রীতিমতো শোকের আবহে পরিণত হয়।
হরিদ্বারে বর
ওদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে মহসিনকে গঙ্গার কাছে একবার দেখা যায়। ফলে পুলিস ডুবুরিদের ডেকে জলে অনুসন্ধান শুরু করে। কিন্তু সোমবার একটি ইতিবাচক খবর আসে। মহসিন এক আত্মীয়কে ফোন করে জানান যে, তিনি হরিদ্বারে আছেন। পরিবার তৎক্ষণাৎ পুলিসকে খবর দেয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি দল হরিদ্বারের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
কেন পালালেন সে রাতে?
রহস্য! জিজ্ঞাসাবাদের সময় মহসিন জানান যে, তিনি তাঁর কনের সামনে গিয়ে সেদিন কেমন যেন ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কেমন একটা অভিভূত লাগছিল। আসলে ওই পরিস্থিতিটা তাঁর মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। তাই কাউকে কিছু না জানিয়েই তিনি সেরাতে হেঁটে বেরিয়ে পড়েন এবং হরিদ্বার পৌঁছনো পর্যন্ত চলতে থাকেন।
(Feed Source: zeenews.com)
