Jaish-e-Mohammed suicide bombing training: ‘মৃত্যুর পর সোজা স্বর্গ!’ জন্নতের লোভ দেখিয়ে মহিলা আত্মঘাতী বোমারু ব্রিগেডকে তালিম দিচ্ছে জৈশ…অনলাইন ক্লাসে হাজার হাজার…

Jaish-e-Mohammed suicide bombing training: ‘মৃত্যুর পর সোজা স্বর্গ!’ জন্নতের লোভ দেখিয়ে মহিলা আত্মঘাতী বোমারু ব্রিগেডকে তালিম দিচ্ছে জৈশ…অনলাইন ক্লাসে হাজার হাজার…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাঁচ হাজার মহিলা সদস্য নিয়োগ করেছে জৈশ-এ-মোহম্মদ, তৈরি হচ্ছে আত্মঘাতী ব্রিগেড: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মাসুদ আজহারের নতুন চাল

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জৈশ-এ-মোহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) তাদের শক্তি আরও বাড়াতে এবার মহিলাদের নতুন শাখা তৈরি করেছে। বলা যায় মহিলা ব্রিগেড। ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ (Jamaat-ul-Mominaat) নামে এই শাখাটির বাড়বাড়ন্ত ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জৈশ প্রধান মাসুদ আজহার নিজেই দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজারেরও বেশি মহিলা এই সংগঠনে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁদের আত্মঘাতী মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে।

নেতৃত্বে মাসুদের বোন ও হামলার মাস্টারমাইন্ডের স্ত্রী

জৈশের এই নতুন মহিলা শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া (Sadia)। এছাড়াও এই সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেন পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড উমর ফারুকের স্ত্রী আফিরা (Afira)।

মাসুদ আজহারের লক্ষ্য, মহিলাদের নিয়োগের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও সম্প্রসারণ আরও জোরদার করা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করছেন যে, যারা সংগঠনে যোগ দেবেন, তাঁরা মৃত্যুর পর ‘সরাসরি স্বর্গে যাবেন’। তিনি ভারতীয় সেনা ও মিডিয়ার মহিলা কর্মীদের পাল্টা হিসেবে এই জঙ্গি ব্রিগেডে মহিলা সদস্যদের যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পদ্ধতি

১. রেকর্ড সংখ্যক যোগদান: মাসুদ আজহার দাবি করেছেন, সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচ হাজারেরও বেশি মহিলা এই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। বহু মহিলাকেই এই মিশনের জন্য ধর্মান্তরিতও করা হয়েছে বলে খবর।

২. সাংগঠনিক কাঠামো: নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) সহ বিভিন্ন জেলায় সংগঠন তৈরির কাজ চলছে। মাসুদ আজহারের মতে, প্রতিটি জেলায় একজন মহিলা প্রধান ‘মুনতাজিমা’ (Manager)-এর নেতৃত্বে একটি অফিস থাকবে, যেখান থেকে জিহাদের পরিকল্পনা চলবে।

৩. প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ৮ অক্টোবর থেকে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর, মুলতান, সিয়ালকোট, করাচি, মুজফফরাবাদ এবং কোটলি অঞ্চলের মহিলারা জইশের সদর দফতর মার্কাজ উসমান-ও-আলি (Markaz Usman-o-Ali)-তে নিয়োগের জন্য আসছেন।

৪. অনলাইন প্রশিক্ষণ: সূত্রের খবর, নতুন সদস্যদের অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ক্লাসগুলি ৪০ মিনিটের, যার জন্য অংশগ্রহণকারীদের ৫০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। পুরুষ সদস্যদের জন্য যেমন ‘দৌরা-এ-তারবিয়াত’ নামে কোর্স আছে, তেমনই মহিলাদের জন্য ‘দৌরা-এ-তাসকিয়া’ নামে আলাদা কোর্স থাকবে।

ভারতের উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহিলাদের র‍্যাডিক্যালাইজ (Radicalisation) করে ভবিষ্যতে আইএসআইএস (ISIS), হামাস (Hamas) বা এলটিটিই (LTTE)-এর ধাঁচে মহিলা ব্রিগেড তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

এই সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তেও এই মহিলা শাখার নাম উঠে এসেছে। এই ঘটনায় ধৃত শাহিন সইদ, যার কাছ থেকে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল, তার সঙ্গে ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর যোগ পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের মাটিতে গড়ে ওঠা এই মহিলা ব্রিগেডের দ্রুত বৃদ্ধি ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

(Feed Source: zeenews.com)