
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে গিয়ে পড়ল গাড়ি। পাহাড়ি পথে প্রবল সংঘর্ষে ভেতরেই তালগোল পাকিয়ে গেলেন ৫ জন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন ওইসব যাত্রীরা। রবিবার ওই ভয়ংকর দুর্ঘটানা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাসিক ওয়ানিতে। হতভাগ্য যাত্রীরা সপ্তশৃঙ্গী মন্দির থেকে ফিরছিলেন। পথে গণেশ পয়েন্টের কাছে তাদের টয়োটা ইনোভা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ১০০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।
তীর্থ সেরে যাত্রীরা ঘরে ফিরছিলেন। নাসিক ওয়ানি এলাকায় তাদের গাড়িটি একটি খাড়া জায়গায় উঠছিল। সেইসময় গণেশ পয়েন্টের কাছে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফলে এবার গাড়িটি পিছিয়ে এসে খাদে গড়িয়ে পড়ে। প্রায় চূর্ণবিচুর্ণ হয়ে গাড়িটি একটি জঙ্গলঘেরা এলাকায় এসে থমকে যায়। জানা যাচ্ছে যে এলাকায় দুর্ঘটনা হয়েছে সেথানে অনেক বাঁক রয়েছে। এর আগেও ওই এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েছে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এলাকার মানুষজন। তারা আহতদের উদ্ধারকাজে প্রথম হাত লাগান। পরে পুলিস এসে যাত্রীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।
উল্লেখ্য, সপ্তশৃঙ্গী দেবীর মতো বিখ্যাত ধর্মীয় স্থানগুলিতে ভ্রমণকারী তীর্থযাত্রীদের পাহাড়ি অঞ্চলে হওয়ায় তাদের সবসময় সাবধানে গাড়ি চালাতে বলে থাকে স্থানীয় প্রশাসন। কারণ রাস্তাগুলি খুবই বিপজ্জনক। বিশেষ করে ফেরার পথে।
এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এবছরই সেপ্টেম্বর মাসে একটি তীর্থযাত্রী বোঝাই সপ্তশৃঙ্গী দেবী মন্দিরের কাছ থেকে ফেরার সময় ওই একই জায়গায় একটি বাঁক নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। মৃত্য হয় ১১ জনের। মৃতরা মালেগাঁও তালুকের ভিলকোট, জোগাদে এবং গুগলওয়াড এলাকার মানুষ।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রেই লোনাভালার কাছে একটি ট্রাক ও একটি গাড়ির সংঘর্ষে ২ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ওই দুজন গোয়া থেকে ফিরছিলেন। পুলিস সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তিরা মোট ১৪ জনের একটি দলের সঙ্গে এসেছিলেন নোলাভালায়। সবাই পিকনিক শেষ ফিরছিলেন। দ্রুত গতিতে আসা গাড়িটিতে থাকা ওই দুই ব্যক্তি সরাসরি ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা মারেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকে থাকা দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে পুলিসকে খবর দেন।
পুলিস সূত্রে খবর, মৃতরা হলেন যোগেশ সুতার এবং ময়ূর। দুজনেই গোয়ার মাপুসার বাসিন্দা। সংঘর্ষে ট্রাক চালকও আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। মৃতদেহগুলি নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কী কারণে দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই উত্তরাখণ্ডে এক বাস দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়। সেবারও পাহাড়ি পথে বাঁক নেওয়ার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মারা যান ৪ পুণ্যার্থী।
(Feed Source: zeenews.com)
