Pakistan Violence: WATCH | পাকিস্তানের নিজের ঘরেই এবার আগুন! পৃথক সিন্ধুদেশের দাবিতে জ্বলছে করাচি…

Pakistan Violence: WATCH | পাকিস্তানের নিজের ঘরেই এবার আগুন! পৃথক সিন্ধুদেশের দাবিতে জ্বলছে করাচি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের নিজের ঘরেই এবার আগুন! পৃথক সিন্ধুদেশের দাবিতে উত্তপ্ত করাচি। জ্বলছে করাচি। সিন্ধি কালচার ডে-র দিনে পৃথক সিন্ধুদেশের দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। যার জেরেই হিংসা ছড়িয়েছে পাক ভূমে।

সিন্ধ প্রদেশের স্বাধীনতা দাবি করেছেন প্রতিবাদকারীরা। প্রসঙ্গত সিন্ধি জাতীয়তাবাদী দলগুলোর এটি একটি দীর্ঘদিনের দাবি। উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায় যখন পৃথক সিন্ধুদেশের (Sindhudesh) দাবিতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় পাকিস্তানের করাচিতে (Pakistan Karachi Violence)। বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। ভাঙচুর চালায়। পুলিসের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। মহাভারতের সূত্র অনুযায়ী, আধুনিক সিন্ধ প্রদেশের প্রাচীন নাম ছিল সিন্ধুদেশ। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সিন্ধ প্রদেশ পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ। ইন্দুস নদীর তীরবর্তী সিন্ধ প্রদেশ, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

রবিবার সিন্ধি কালচার ডে উপলক্ষে হাজারো মানুষ পৃথক সিন্ধুদেশের দাবিতে রাস্তায় নামে। জিয়ে সিন্ধ মুক্তাহিদা মহাজ (JSSM)-এর ব্যানারে একটি বড় দল ‘আজাদি’ (স্বাধীনতা) এবং ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ স্লোগান তোলে। তারা সিন্ধ প্রদেশের স্বাধীনতার দাবি জানায়। যা বহুদিনের সিন্ধি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দাবি। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের রুট পরিবর্তন করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠ হাজারো বিক্ষোভকারীরা। জনতার একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে এবং ভাঙচুরে লিপ্ত হয়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিস টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিংসার ঘটনায় কমপক্ষে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জন পুলিস সদস্য এই ঘটনায় আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আবেদন
দীর্ঘদিন ধরে সিন্ধি সংগঠনগুলো দাবি করে এসেছে যে প্রদেশটিতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। এ বছরের শুরুর দিকে নির্বাসিত চেয়ারপার্সন শফি বুরফতের নেতৃত্বাধীন জিএসএসএম (JSSM) জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করে সিন্ধুদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানায়। জিএসএসএম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তাদের দাবি সমর্থন করার জন্য আবেদন জানিয়েছে। জিএসএসএম অভিযোগ করে যে সিন্ধুদেশ আন্দোলনকে দমন করতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করছে।

‘সিন্ধ অঞ্চল ভারতের কাছে ফিরবে’
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বলেছেন, সিন্ধ অঞ্চল একদিন ভারতের কাছে ফিরে আসবে। গত মাসে দিল্লিতে সিন্ধি সমাজ সম্মেলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন যে তাঁর প্রজন্মের বহু সিন্ধি হিন্দু ‘১৯৪৭ সালের সিদ্ধান্ত’ কখনও পুরোপুরি মেনে নিতে পারেননি। যে সিদ্ধান্তের ফলে সিন্ধ পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সিন্ধ সবসময়ই ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত। বলেছিলেন, “আজ সিন্ধ ভারতের অংশ না হলেও সভ্যতার দিক থেকে সিন্ধ চিরকাল ভারতের অংশ থাকবে। সীমান্ত পরিবর্তন হতেই পারে! কে জানে, কালই হয়তো সিন্ধ আবার ভারতের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে!”

স্বাধীন সিন্ধুদেশের দাবির সূচনা ১৯৭১ সালে
স্বতন্ত্র সিন্ধুদেশের প্রথম দাবি ওঠে ১৯৬৭ সালে, জিএম সৈয়দ—যিনি প্রথমে দেশভাগকে সমর্থন করেছিলেন এবং পীর আলি মোহাম্মদ রাশদির নেতৃত্বে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তির পর এই আন্দোলন গতি পায়। ইন্দুস ভ্যালি সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত সিন্ধ প্রদেশের মানুষরা তাদের স্বতন্ত্র জাতিগত, ভাষাগত এবং ঐতিহাসিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

(Feed Source: zeenews.com)