জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মর্মান্তিক! স্কুল বাস সোজা গিয়ে পড়ল ৪০ মিটার গভীর খাদে। মৃত কমপক্ষে ১৬ পড়ুয়া-সহ চালক। আহত হয়েছে ২০ জন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পশ্চিম কলোম্বিয়ায়। জানা গিয়েছে, বাসটি ক্যারিবিয়ান সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে ফিরছিল তখনই ঘটনাটি ঘটে।
শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন উদযাপনে গিয়েছিল। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর। তারা মেডেলিনের কাছের বেলো শহরের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী। কলোম্বিয়া উপকূলের ক্যারিবিয়ান সমুদ্রসৈকত থেকে ফিরছিল তারা। ফেরার পথে বাসটি প্রায় ৪০ মিটার নিচে পড়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরাই এই সফরের আয়োজন নিজেরাই করেছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এল চিসপেরো এলাকার রেমেডিওস এবং জারাগোজার সংযোগকারী একটি সড়কে রবিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তিওকুইয়া বিভাগের গভর্নর আন্দ্রেস জুলিয়ান রেন্ডন জানিয়েছেন যে নিহতদের দেহ মেডেলিন লিগ্যাল মেডিসিন ইনস্টিটিউটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১৬ জন শিক্ষার্থী ও বাসের চালক রয়েছেন। কলোম্বিয়ান পুলিস হেলিকপ্টার ইতিমধ্যে দেহগুলো নিয়ে রওনা হয়েছে।’
তিনি আরও লেখেন, বার্ষিক পরীক্ষা শেষে উদযাপনের অংশ হিসেবে সমুদ্রসৈকতে শিক্ষা সফরে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। ডিসেম্বরের এই সময়ে পুরো কমিউনিটির জন্য এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক খবর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তরুণদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। পড়াশোনা বা আনন্দ উপভোগের সময় এমন দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা গিরিখাত থেকে স্ট্রেচারের মাধ্যমে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়োতে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনতে পাই। এরপর আর কিছু মনে নেই।’
প্রসঙ্গত, কলোম্বিয়ায় গত বছর দৈনিক গড়ে ২২ জন ট্রাফিক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
