Male Infertility: আইটি জব-জিম কালচার-ঘুমে ঘাটতি, পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমাচ্ছে মারাত্মক এইসব বিষয়…

Male Infertility: আইটি জব-জিম কালচার-ঘুমে ঘাটতি, পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমাচ্ছে মারাত্মক এইসব বিষয়…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এই জেট যুগে বাড়ছে মানুষের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, টানা কাজের সময়। পরিবারকে সময় দিয়ে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। আর এর সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে কমছে পুরুষদের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতা। তবে এর পেছনে রয়েছে আরও অনেক কারণ। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

একটা সময় ছিল যখন সন্তান না হলেই তার সব দায় গিয়ে পড়ত স্ত্রীর উপরে। তার সংসার করাই দায় হত। কিন্তু আধুনিক সমীক্ষা বলছে সন্তানের জন্ম দেওয়া সংক্রান্ত একশো শতাংশ সমস্যার মধ্যে অন্তত ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষরা। ফলে পুরুষদের মধ্য়ে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এখন আধুনিক প্রজন্মের কাছে অত্য়ন্ত বড় বিষয়।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা মন্দাভি রাই বলেন, মদের নেশা, ধুমপান, আঁটসাঁটো পোশাক, সবসময় মোবাইল-ল্য়াপটপের সামনে বসে থাকার মতো বিষয়টি মানুষ পাত্তা দেয় না। এইসবের কারণে পুরুষদের শরীরে স্পার্ম কোয়ালিটি কমে যায়। অনেক কাপলের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া, ক্লান্তি, স্ট্রেস নিয়ে যৌনমিলন সন্তান উত্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে। তবে তার থেকেও বড় বিষয় হল এইসব বিষয় নিয়ে পুরুষরা চিকিত্সকের কাছে আসেন অনেক দেরিতে।

কোন ধরনের পুরুষরা এরকম পরিস্থিতির শিকার? বিশেষজ্ঞরা বলছেন ১৫ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন যারা খুব বেশি প্রসেসড খাবার খেয়ে থাকেন, খুব ভারী চেহারা, ভালো ঘুম হয় না, অত্যন্ত দূষণযুক্ত এলাকায় থাকেন, অনেকে কোনও ভালো ট্রেনার ছাড়াই জিম করেন। অনেকে জিম করে চেহারা তৈরি করতে গিয়ে প্রোটিন পাউডার, স্টেরয়েড, এনার্জি ড্রিঙ্ক নিয়ে থাকেন। এইসব খাবারদাবারই ধীরে ধীরে পুরুষদের মধ্যে হরমোনাল ব্যালান্স নষ্ট করে দেয়, স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা, যৌনাঙ্গের ইনফেকশন, ডাক্তারি পরামর্শ নিতে দেরি করা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। মহিলাদের মধ্য়ে বিভিন্ন সময় দেখা যায় ব্যাকটেরিয়াল ভ্য়াজাইনোসিস। এর কারণ ব্যাকটেরিয়ার ইমব্যালান্স। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন রকম সেক্সচুয়ালি টান্সমিউটেড ডিজিজ। মহিলাদের মধ্যে আরও অনেক জননাঙ্গ সংক্রান্ত সমস্যা সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহিলাদের এরকম সমস্যা থাকা অবস্থায় যদি কোনও পুরুষের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করেন তাহলে তা পুরুষের মধ্যে স্পার্মের কাউন্ট ও স্পার্মের স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে। অর্থাত্ ইনফেকশন থাকা অবস্থায় যৌন সম্পর্ককে এগিয়ে না নিয়ে গিয়ে সময়মতো চিকিত্সা প্রয়োজন।

প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসে বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে লাইফস্টাইলের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রজনন ক্ষমতা কম এমন পুরুষের অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে তারা উপযুক্ত ইনস্ট্রাক্টর ছাড়া  জিম করেন। কিংবা প্রেটিন সাপ্লিমেন্ট বা স্টেরয়েড নেন। এতে স্পার্মের ক্ষমতা কমে।

চিকিত্সকরা বলছেন পুরুষদের মধ্যে যৌন ক্ষমতা বা প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের একটা অন্যতম কারণ হল কিছু অসুখ। তার মধ্য়ে বড় রোগটি হল ডায়াবেটিস। এর সঙ্গে ওবেসিটি থাকলে সমস্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আইটি প্রফেশনালদের নাইট শিফট হরমোনাল ব্যালান্স নষ্ট করে। এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় প্রজজন ক্ষমতা। স্পার্ম ফ্রিজ করে রাখার প্রযুক্তি চলে এসেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে খুব কম পুরুষই স্পার্ম ফ্রিজ করেন। এদের বেশিরভাগই ক্যান্সারের রোগী, রেডিয়েশন বা কেমো নিচ্ছেন এমন রোগী। খুব কম মানুষই আসছেন যারা অনেক দেরিতে বিয়ে করেছেন।

(Feed Source: zeenews.com)