
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল মুম্বই। এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মহিলা, যিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভয়, লজ্জা ও নির্যাতনের বোঝা বয়ে চলেছেন, অবশেষে সাহস করে মুখ খুললেন। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার তাঁকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং সেই ঘটনার ভিডিও তুলে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে যখন ওই মহিলা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এক এনজিও-র সহায়তায় জীবনযাপন করছিলেন, ইশারার মাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে যখন তিনি মাত্র ১৯ বছরের, তখন থেকেই এক ব্যক্তি তাঁকে যৌন হেনস্থা করতে শুরু করে। প্রথমে সহানুভূতির মুখোশ পরে তাঁর কাছে ঘনিষ্ঠ হয় অভিযুক্ত, পরে সুযোগ বুঝে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং সেই ঘটনার ভিডিও তুলে রাখে। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেল-ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
ওই মহিলা জানান, তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের কষ্ট কাউকে বোঝাতে পারেননি। সমাজের ভয়ে, অপমানের আশঙ্কায় এবং নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি চুপ করে সব সহ্য করে গিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তায় তিনি সাহস সঞ্চয় করেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
মুম্বই পুলিস ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় অপরাধ ইত্যাদি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এই ঘটনার পর সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ‘এই ঘটনা শুধু একজন মহিলার নয়, এটি গোটা সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিবন্ধী মহিলাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’
এনজিও-র এক কর্মী বলেন, ‘ওই মহিলা যে সাহস দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই পদক্ষেপ আরও অনেক নির্যাতিতাকে সামনে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।’
এই ঘটনার পর মুম্বই পুলিশ বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী মহিলাদের জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করার কথা ভাবছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সমাজে এখনও অনেক অন্ধকার কোণ রয়েছে, যেখানে নির্যাতনের শিকাররা নীরবে কষ্ট পান। তবে এই সাহসী মহিলার পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নীরবতা ভাঙলেই পরিবর্তনের সূচনা হয়। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা, সহানুভূতি ও আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
(Feed Source: zeenews.com)
