
প্রাক্তন পাক অধিনায়কের দাবি অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে আয়ুষ মাত্রে, বৈভব সূর্যবংশীদের ব্যবহার অনৈতিক ছিল যা স্পোর্টসম্যানশিপবিরোধী। সরফরাজ বলেন, ‘আমরা তো এর আগে ভারতীয় দলগুলির বিরুদ্ধে খেলেছি যারা খেলাটাকে সম্মান করত। তবে এই তরুণরা যেভাবে আচরণ করেছে, তা খেলার প্রতি অসম্মানজনক। আমি আমাদের ছেলেদের আগেভাগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলাম যে জয় উদযাপন যেন অসম্মানজনক না হয়। আমি চেয়েছিলাম ছেলেরা যাতে এই ফর্ম্যাটে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে। ওদের বলেছিলাম যে প্রতিপক্ষ যা করছে করুক, নিজেদের ওপর ভরসা রাখ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই ম্যাচে ভারতের ব্যবহার একেবারেই ভাল ছিল না। আর ক্রিকেটের প্রতি ওদের আচরণ অনৈতিক ছিল। তবে আমরা স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় রেখেই জয়টা উদযাপন করেছি। ক্রিকেটে তো সবসময়ই এই স্পোর্টসম্যানশিপটা থাকা উচিত। ভারত যা করেছে সেটা ওদের সিদ্ধান্ত।’
গোটা টুর্নামেন্টে দাপট দেখিয়ে সবকয়টি ম্যাচ জিতেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেরা। তবে অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়ার জুনিয়ররা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে বৈভব শুরুটা দারুণ করেও দলকে জেতাতে পারলেন না। ১৯১ রানের বিরাট ব্যবধানে হারল ভারত। ভারতের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল, সিনিয়র দলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর এবার মেন্টর হিসাবে দলকে অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ জেতালেন প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আমেদ।
এদিন আইসিসি অ্যাকাডেমির মাঠে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে সমীর মিনাসের ঐতিহাসিক ইনিংসে ভর করে রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। মিনাস মাত্র ১১৩ বলে ১৫২.২১ স্ট্রাইক রেটে ১৭টি চার এবং নয়টি ছক্কার সুবাদে ১৭২ রানের ইনিংস খেলেন। ইয়ুথ ওয়ান ডেতে এটাই কোনও পাকিস্তানি ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
বিরাট রানের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে ভারত শুরুটা দুরন্তভাবে করেছিল। বৈভব প্রথম ওভার থেকেই বড় শট মেরে ভারতের হয়ে শুরুটা ভালই করে। তবে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রেকে হারিয়ে প্রথম ধাক্কা খায় ভারত। তিনি মাত্র দুই রানে সাজঘরে ফিরে এক হতাশাজনক টুর্নামেন্ট শেষ করেন। অ্যারন জর্জ ১৬ রানে আউট হওয়ার পর বৈভবের বিধ্বংসী ইনিংস শেষ হয়। সে ১০ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরে।
রান থাকলেও ৪.১ ওভারে ৪৯-এ তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ভারতীয় জুনিয়ররা ম্যাচে ফিরতেই পারেনি। ১৫৬ রানেই অল আউট হয়ে যায় ভারত। আলি রাজ়া পাকিস্তানের হয়ে সর্বাধিক চারটি উইকেট নেন।
(Feed Source: abplive.com)
