Travel News: হাজারদুয়ারি এলে কেন গাইড নেওয়া প্রয়োজন, যাওয়ার আগে জানুন

Travel News: হাজারদুয়ারি এলে কেন গাইড নেওয়া প্রয়োজন, যাওয়ার আগে জানুন

Travel News: সামনেই বড়দিন। বৃহস্পতিবার বড়দিন থেকে নতুন বছর এই সময়ে ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারি প্যালেসে দর্শনে আসেন বহু পর্যটকরা। কিন্তু অনেকেই হাজারদুয়ারি এলেও গাইড নিতে চাননা। গাইড নিলে ইতিহাসের সম্পর্কে জানা যায়। বর্তমানে সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে গাইডদের।

হাজারদুয়ারীতে গাইড

মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: সামনেই বড়দিন। বৃহস্পতিবার বড়দিন থেকে নতুন বছর এই সময়ে ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারি প্যালেসে দর্শনে আসেন বহু পর্যটকরা। কিন্তু অনেকেই হাজারদুয়ারি এলেও গাইড নিতে চাননা। গাইড নিলে ইতিহাসের সম্পর্কে জানা যায়। বর্তমানে সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে গাইডদের। পর্যটকদের জন্য মাথা পিছু গড়ে ৫০টাকা করে ধার্য্য করা হয় গাইডদের। তাই হাজারদুয়ারি এলে গাইড নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন গাইডরা ।

মুর্শিদাবাদে দর্শনীয় স্থানগুলির তালিকায় মধ্যে পর্যটকরা সবার আগে রাখেন হাজারদুয়ারি প্রাসাদকে। এই দুর্গপ্রাসাদ যেখানে অবস্থিত, সেই পুরো চত্বরটাকে বলে নিজামত কিলা বা কিলা নিজামত। হাজারদুয়ারি ছাড়াও ইমামবাড়া, ঘড়ি ঘর, মদিনা মসজিদ, চক মসজিদের মতো বেশ কিছু স্থাপত্য রয়েছে কিলা নিজামত এলাকায়। তবে সেগুলো দর্শনের জন্য এলেই হাজারদুয়ারীতে প্রয়োজন গাইডদের। তাই গাইড নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন গাইডরা। দু’বছর আগেই উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের মধ্যে দিয়েই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গাইডদের। সরকারি স্বীকৃত প্রাপ্ত ৫০জন গাইড আছেন হাজারদুয়ারী চত্বরে। তারা সমস্ত কিছুই পরিদর্শন করিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দেন পর্যটকদের।

হাজারদুয়ারি মুলত নবাব নাজিম হুমায়ুন জা তৈরি করিয়েছিলেন। ১৮২৯ সালে তিনি এই প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গোটা স্থাপত্যের রূপকার ছিলেন ডানকান ম্যাকলিওড। দেখলেই বোঝা যায়, এই প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী ইউরোপীয় ঘরানার, বিশেষ করে ইতালীয় রীতির সৌধগুলোর সঙ্গে মিল প্রচুর। ১৮৩৭ সালে মুর্শিদাবাদের প্রধান আকর্ষণ হাজারদুয়ারির নির্মাণকার্য শেষ হয়। ৪১ একর জায়গা নিয়ে এই প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। ১ হাজারটা দরজা আছে বলে এর নাম হাজারদুয়ারি। অবশ্য দরজাগুলির মধ্যে ১০০টাই নকল। তবে চট করে দেখে নকল দরজাগুলোকে চিহ্নিত করা বেশ মুশকিল। দেওয়ালের মধ্যে এমনভাবে ডিজাইন করা, বাইরে থেকে দেখলে হুবহু আসল দরজা মনে হবে। দুর্গপ্রাসাদে যদি হঠাৎ করে শত্রুরা আক্রমণ করে বসে, তাদের বিভ্রান্ত করার জন্যই নকল দরজাগুলো বানানো হয়েছিল। সাধারণভাবে প্রাসাদটি হাজারদুয়ারি নামে প্রচলিত হলেও, হুমায়ুন জা একে ‘বড়ো কুঠি’ নামেই ডাকতেন।