
মৌমিতা চক্রবর্তী: দীর্ঘ ১৭ বছর পর, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগেই, বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ ফিরছেন তারেক রহমান। হিংসা জর্জরিত বাংলাদেশে তারেক রহমানের ফেরা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের জন্য দলের বিএনপির পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও সমন্বিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তাঁর বাসভবন ও অফিসে থাকবে নিরাপত্তা। উর্দিধারীদের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া নিরাপত্তায় মাঠে থাকবেন ঢাকা মহানগরের পুলিশ। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের জন্য দলের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, সরকার জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নিরাপত্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাঁর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া নিরাপত্তায় মাঠে থাকবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিমের সদস্যরা। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ঢাকা মহানগরজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তারেকের প্রত্যাবর্তন, বিএনপির প্ল্যান
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে যে বড় ধরনের জনসমাগম হবে, তা শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করবে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তারেক রহমানকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। প্রায় দেড় যুগ পর ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে।
অস্থির বাংলাদেশে তারেকের প্রত্যাবর্তন কতটা তাৎপর্যপূর্ণ
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ এক তীব্র সংকটের মুখোমুখি। ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন। আর বড় ধরনের কোনও বিপর্যয় না ঘটলে সেই নির্বাচনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি। আর সেক্ষেত্রে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাবা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মায়ের উত্তরসূরী হিসেবে দেশকে পরিচালনা দায়িত্ব পেতে পারেন তারেক রহমান। দেশকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো অবস্থানে আসতে পারেন তিনি। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। আর বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তারেক রহমানকে দল মনোনীত করবে বলেই শোনা যাচ্ছে।
তারেকের পররাষ্ট্রনীতি, ইউনূস সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের ইউনূসের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারেক রহমান। তারেক রহমান স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অধীনে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি কী হবে। চলতি বছরের মে মাসে, তারেক রহমান নির্বাচন এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে, দীর্ঘমেয়াদী পররাষ্ট্র নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনূস সরকারের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারেক রহমানের কথায়, বাংলাদেশ প্রথম নীতি! তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বাংলাদেশ রাওয়ালপিন্ডি বা দিল্লির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নয় বরং বাংলাদেশকেই প্রথমে রাখবে। তারেক রহমানের কথায়, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবকিছুর আগে বাংলাদেশ।” একদিকে তারেক রহমান যেমন আওয়ামি লীগ ও হাসিনার সমালোচনায় মুখর হয়েছেন, তেমনই ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গেও তাঁর বেশ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রশ্ন তুলেছেন ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েও।
(Feed Source: zeenews.com)
