IPL 2026 Auction: ‘বাবার থেকে আর টাকা চাইতে হবে না’, ট্রাক চালকের ছেলের নিলামে ৫.২০ কোটি! কে মঙ্গেশ যাদব?

IPL 2026 Auction: ‘বাবার থেকে আর টাকা চাইতে হবে না’, ট্রাক চালকের ছেলের নিলামে ৫.২০ কোটি! কে মঙ্গেশ যাদব?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত ১৬ ডিসেম্বর আইপিএল নিলাম ( IPL 2026 Auction) মহাযজ্ঞ হয়েছিল আবুধাবিতে। ৭৭ শূন্যপদ পূরণের লড়াইয়ে ছিলেন ৩৫৯ জন ক্রিকেটার। গতবারের শিরোপাজয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ১৬.৪ কোটি টাকা নিয়ে বাজারে এসেছিল ৮টি স্লট পূরণ করতে। নিলামে সবাইকে চমকে দিয়েছিল আরসিবি। ৩০ লাখ টাকার বেসপ্রাইজে থাকা মঙ্গেশ যাদবকে (Mangesh Yadav) নিতে তারা ৫.২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

কে এই মঙ্গেশ যাদব?

এখন সকলের মুখেই বাঁহাতি ফাস্ট-বোলিং অলরাউন্ডার মঙ্গেশের নাম। যিনি ব্যাটিং অর্ডারের নীচের দিকে নেমে বড় শটও খেলতে পারেন। চলতি বছর সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে (এসএমএটি) মাত্র দুম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ২৩ বছরের মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। মঙ্গেশ এসএমটি-তে এক ইনিংসে ২৩৩.৩৩-এর ভয়ংকর স্ট্রাইক রেটে ২৮ রান করে ৩ উইকেট নেন।

মধ্যপ্রদেশের টি-২০ লিগে মঙ্গেশ

চলতি বছরের শুরুর কথা। মঙ্গেশ মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে গোয়ালিয়র চিতাজের হয়ে খেলেছিলেন এবং দুর্দান্ত পারফর্ম করেছিলেন। আরসিবি অধিনায়ক রজত পাটিদারের সঙ্গে খেলে মঙ্গেশ ৬ ম্যাচে মাত্র ১২-র গড়ে ১৬ উইকেট নিয়েছিলেন এবং তাঁর বোলিং সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। তবে, এসএমটি-তে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ততটা শক্তিশালী ছিল না। দুই ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ৪৭ এবং ৩৮ রান দিয়েছিলেন। তবুও, মধ্যপ্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে তার শক্তিশালী পারফরম্যান্স আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। যার ফলে আরসিবি তাঁকে বিশাল অঙ্কের টাকায় বিড করতে দুবার ভাবেনি।

মঙ্গেশকে নিয়ে আরও কিছু কথা

মঙ্গেশের জীবনের শুরুতে ছিল বিরাট সংগ্রাম। তাঁর বাবা ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করতেন। এক সাধারণ পরিবারে জন্মানো মঙ্গেশের বাবা রামাবধ যাদব, উত্তর প্রদেশের মউ জেলার কৈথওয়ালি গ্রামের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে মধ্যপ্রদেশের পান্ধুরনা জেলায় এসে থাকতে শুরু করেন। সেখানে তিনি বোরগাঁও এলাকার এক ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই মঙ্গেশ অন্য সবকিছুর চেয়ে ক্রিকেটকে বেশি ভালোবাসতেন। সাত বছর আগেও মঙ্গেশ টাকার জন্য টেনিস-বলের ক্রিকেট খেলতেন এবং উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের স্থানীয় টুর্নামেন্টগুলিতে অংশ নিতেন। সাধারণ ট্রেনের কামরা বা রাজ্য পরিবহণের বাসেই ভ্রমণ করতেন মঙ্গেশ। এই ম্যাচগুলি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সে নিজের খরচ চালাত।

এত টাকা পেয়ে হতবাক মঙ্গেশ

মঙ্গেশ বলেন, বাবার কাছে আর টাকা না চাওয়াটাই আমার কাছে বিরাট অর্জনের। আজ এত বড় অঙ্কের দর পাওয়ার অনুভূতিটা কীভাবে সামলাব, তা আমি জানি না। আমার বাবা-মাকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে চাই। তার জন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজেকে ভাসিয়ে দিলে চলবে না, আমার বয়স যখন সাত বছর, তখন মা বোরাগাঁওতে আমাদের বাড়ির সামনে আমাকে বল ছুড়ে দিতেন। এভাবেই আমার শুরু। আমার বাবা ট্রাক চালাত। আমি যখন দেখতাম বাবা প্রতিদিন ভোর তিনটেয় ঘুম থেকে উঠে সারাদিন বিপজ্জনক রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে, তখন আমি টাকা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য বুঝতে পেরেছিলাম। বাবা এত বছর ধরে পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। এখন আমি তাকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে চাই। আমরা চার ভাইবোন। আমার ছোট বোন ক্রিকেট ভালোবাসে এবং ও একজন উদীয়মান বোলার। আমি চাই ওকেও আর্থিক ভাবে কোনও চিন্তা না করে পুরোদমে ক্রিকেট খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করতে

বোঝাই যাচ্ছে মঙ্গেশের পুরো পরিবারের অবস্থাই বদলে দিয়েছে এই টাকা।

(Feed Source: zeenews.com)