
জি ২৪ ধণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সোনা তো সোনাই। উল্কার গতি দাম বাড়ছে রুপোরও! দাম এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, অ্যাপলকে পিছনে ফেলে রুপোই এখন বিশ্বের তৃতীয় মূল্যবান সম্পদ। তালিকায় শীর্ষ সোনা, আর দ্বিতীয় স্থানে এনভিডিয়া (Nvidia)। চলতি বছরে রুদোর দাম বৃদ্ধির হার ১৫০ শতাংশ।
সোনা দাম আকাশছোঁয়া। রুপো কিনবেন, সে উপায়ও নেই। মঙ্গলবার দিনের শেষে রূপোর দাম পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৪.০৪ ট্রিলিয়ন ডলারে! উল্টোদিকে অ্যাপলের দাম ৪.০২ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে রুপো এখন অ্যাপেলের থেকেও দামী। কেন এমন পরিস্থিতি? অনেক ব্যবসায়ীর ধারণা, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সুদের হার কমানো অব্যাহত রাখবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। ফলে আপাতত রুপোর দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং আরও বাড়বে।
এখন গ্লোবাল সাপ্লাই চেনে রুপো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্রেফ গয়নাই নয়, ইলেকট্রনিক্স, সোলার প্যানেল এবং এমনকি চিকিৎসা সরঞ্জামের তৈরিতে রূপোর প্রয়োজন হয়। অক্টোবরের ‘শর্ট স্কুইজে’র পর সেই রুপোর দামই ফের বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মতে, প্রচুর চাহিদা ও -এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ETF) বিপুল বিনিয়োগ রুপো মহার্ঘ করে তুলেছে।
প্রযুক্তিগত সূচকগুলো বলছে, রুপোর বাজার বর্তমানে কিছুটা ‘ওভারহিটেড’ বা উত্তপ্ত। রুপোর রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (RSI) বর্তমানে ৮০, যা একে ‘ওভারবট’ (Overbought) জোনে নিয়ে গিয়েছে। সাধারণত RSI ৭০-এর উপরে থাকলে সেই সম্পদকে ওভারবট হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জের গুদামগুলোতে মজুত রুপোর পরিমাণ গত মাসে ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
এদিকে সোনার দাম অল-টাইম হাই! মার্কিন-ভেনেজুয়ালা টেনশনের আবহে (US-Venezuela tensions) এই মূল্যবৃদ্ধি বলে মনে করছেন সকলে। এটাই কি সোনা-রুপোর এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি (all‑time high)?
মঙ্গলবার এক গ্রাম সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৮১ টাকা! শতাংশের হিসেবে বৃদ্ধি ১.০১! বিশ্ববাজারের রেশ ধরে ভারতের বাজারেও সোনার দাম এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছল! ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩৮,৩৮১ টাকা স্পর্শ করে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। সোমবার, ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দামের ঊর্ধ্বগতি চলছে মঙ্গলবারও। কেবল ২৪ ক্যারেট নয়, গয়না তৈরির সোনা অর্থাৎ ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,২৭,০০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
কেন বাড়ছে দাম? প্রথম কথা হল আন্তর্জাতিক অস্থিরতা। আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে। ওদিকে ফেড রেট কমানোর সম্ভাবনাও একটা কারণ। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আগামী বছরে সুদের হার কমাতে পারে– এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা তুঙ্গে। এর উপর রয়েছে বিয়ের মরসুম। শুধু বাংলা নয়, দেশ জুড়ে চলছে বিয়ের মরসুম। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।
(Feed Source: zeenews.com)
