
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরে লগ্নজিতা চক্রবর্তীর (Lagnajita Chakraborty) হেনস্থার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নদীয়ার মাজদিয়ায় একই ধরনের ঘটনার শিকার হলেন লোকসংগীত শিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় (Madhubanti Mukherjee)। অভিযোগ, একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ভক্তিগীতি গাওয়ার অপরাধে এক দর্শক মঞ্চে উঠে তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন এবং গান গাইতে বাধা দেন।
গত রবিবার নদীয়ার মাজদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে ‘লালন উৎসব ও লোক সংস্কৃতি মঞ্চে’র পক্ষ থেকে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুবন্তী। গায়িকার দাবি, অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি শাহ আব্দুল করিমের জনপ্রিয় গান ‘তোমার কুঞ্জ সাজাও গো’ (রাধা-কৃষ্ণের রাসলীলা বিষয়ক গান) গাইছিলেন। গানটি শেষ হতে না হতেই এক ব্যক্তি আচমকা মঞ্চে উঠে আসেন। মধুবন্তীর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি অত্যন্ত অভব্যভাবে তাঁর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেন এবং দর্শকদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমরা এই জাতপাতের গান শুনব না। কোনো ধর্মের গান শুনব না। আপনি অন্য গান করুন।”
জানা যায় তারিখ গান গাইতে শিল্পী ওই অনুষ্ঠানে যান, সেখানে শাহ আব্দুল করিমের গান তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো গানের মাঝখানে সাধন বিশ্বাস নামে একজন লোক মঞ্চে উঠে গানটি গাওয়া বন্ধ করতে বলে, সেখানে লালনের গান ছাড়া গাওয়া যাবে না বলে। পরবর্তীতে কমিটির লোকজন জানান, লালন মেলায় লোকসংস্কৃতি মঞ্চে লোক গান গাওয়া কোনো অসুবিধা নেই। এখানে শুধু লালনের গানের আলাদা মঞ্চ রয়েছে, যারা লালন গান শুনবেন, তাদের সেখানে যেতে।
এই ঘটনার পর একটি ফেসবুক ভিডিওতে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন মধুবন্তী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন শিল্পীদের বারবার এমন বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে? ধর্মের গান শুনব না, সেকুলার গান গাইতে হবে… আমি জানি না সেকুলার গান কাকে বলে? কোনোদিন হয়তো আমাদের গান গাওয়াই বন্ধ করে দেবে।” ভিডিওতে তিনি নাম না করে লগ্নজিতার ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন।
মধুবন্তী জানিয়েছেন, উদ্যোক্তারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক গৌতম বিশ্বাস মঞ্চে এসে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে শিল্পী তাঁর পছন্দমতোই গান গাইবেন, যার ভালো লাগবে না সে চলে যেতে পারে। আয়োজকদের এই ব্যবহারের কারণেই তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাননি। লালন মেলার কমিটির সম্পাদক বলেন বিষয়টি খুব বেদনাদায়ক, শিল্পী কষ্ট পেয়েছেন, আমরাও দুঃখিত।
(Feed Source: zeenews.com)
