
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মদ্যপ অবস্থায় স্বামী–স্ত্রীর ঝগড়া পরিণত হয় ভয়াবহ রক্তাক্ত কাণ্ড। গত বুধবার রাতে কুড়ুল দিয়ে ২৬ বার স্বামীকে কোপাল স্ত্রী। মারাত্মক রক্তক্ষরণের জেরে স্বামী রবিশঙ্কর সবিতা বা পাপ্পুর মৃত্যু হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত পাপ্পু টাইলস ও পাথর বসানোর কাজ করতেন। ২০১৯ সালে তিনি বান্দার তিনদোয়ারির বীরাঙ্গনার সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন। তাদের চার বছরের ছেলে জৈন পরিবারে একমাত্র শিশু। বাবা-মায়ের ঝগড়ায় বাচ্চাটি ভয় পেয়ে ঘরে লুকিয়ে বসেছিল।
প্রতিবেশীদের এবং পরিবারের থেকে জানা গেছে, স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে মদ্যপান নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া হত। ঘটনার দিনও বীরাঙ্গনা রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে। পাপ্পুও কাজ থেকে ফিরে আসে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রাণঘাতী দ্বন্দ্ব। বীরাঙ্গনা কুড়ুল হাতে রবিশঙ্করের মাথা, ঘাড়, হাত ও মুখে একের পর এক কোপ মারতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন পাপ্পু।
তারপর বীরাঙ্গনা পুলিসের কাছে ফোন করে মিথ্যে জানায় যে স্বামী দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। পুলিস পৌঁছে দেখেন যে, তিনি ঘরের ভিতর ছড়ানো রক্ত পরিষ্কার করছিলেন। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম প্রমাণ সংগ্রহ করে। রবিশঙ্করকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ও বীরাঙ্গনা বাধা দেয়। অনেক চেষ্টা করার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টায় মৃত্যু হয়। পোস্টমর্টেম হাউসের বাইরে স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্রের খবর, পোস্টমর্টেমে দেহে ২৬টি আঘাত ধরা পড়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে রবিশঙ্কর কোমায় চলে যায়, তারপর তাঁর মৃত্যু হয়। বিঠুর থানার ইনচার্জ প্রেমনারায়ণ বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন, পরিবারের লোকেদের মতে, মদ্যপ হওয়ার পর তাদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হত। স্ত্রীই স্বামীকে খুন করেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পোস্টমর্টেম হাউসের বাইরে স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সি পি কল্যাণপুর আশুতোষ কুমার জানিয়েছেন, ছোট ভাই সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে বীরাঙ্গনার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রবিশঙ্কর ও বীরাঙ্গনা ঘরের উঠোনে ঝগড়া করত। ফরেনসিক দল সেখানে রক্তের প্রমাণ পেয়েছে। সিঁড়িতে পড়ে থাকা রবিশঙ্করের কাপড়ও রক্তে ভিজে ছিল। তদন্তে পুলিস তাদের ঘর থেকে অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে।
বীরাঙ্গনা ও পাপ্পু মাসে প্রায় ১৫ দিন ঝগড়া করতেন। পুলিস জানিয়েছে, মদ্যপতার কারণে দুজনের মধ্যে নিয়মিত মতবিরোধ হত। জানা গেছে, স্বামী পাপ্পুর তুলনায় স্ত্রী বেশি মদ্যপ। এই কারণে স্ত্রীয়ের এই আচরণে তার বাবা ও সমস্যায় ছিলেন।
(Feed Source: zeenews.com)
