‘বেঁচে থাকার জন্য ক্রমাগত লড়াই করছি, কেউ আমাদের আর্তনাদ শুনছে না’

‘বেঁচে থাকার জন্য ক্রমাগত লড়াই করছি, কেউ আমাদের আর্তনাদ শুনছে না’
ঢাকা : ওপার বাংলায় হিন্দু যুবক হত্যার প্রতিবাদ দেখা গেছে এপার বাংলায়। কলকাতায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। ডেপুটি হাই কমিশনে গিয়েও নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়ে এসেছে তারা। বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা বন্ধের দাবি তোলা হয়েছে। এবার ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সেখানকার আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডিএন চট্টোপাধ্যায়। দ্রুত নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর কথায়, “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা এখন গোটা বিশ্বের মানুষ জানেন। বিশেষ করে দুর্ঘটনাগুলির কথা। জাতীয় স্তরে আপনারা দেখেছেন কীভাবে সম্মুখসারির সংবাদ মাধ্যম অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। দীপুচন্দ্র দাসের নারকীয় হত্যা এবং দেশজুড়ে আরও অনেক ঘটনা। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ; এটা ভয়াবহ। সরকার খুবই নিষ্ক্রিয়, এবং তারা বিষয়গুলির যথাযথভাবে নজর রাখছে না। সবকিছুই এলোমেলো। সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নন। এটি এক দশক ধরে চলে আসা শোষণ ও নিপীড়ন, এবং আমরা বেঁচে থাকার জন্য ক্রমাগত লড়াই করছি। কেউ আমাদের আর্তনাদ শুনছে না। সর্বশেষ পরিস্থিতি সত্যিই খারাপ। সংখ্যালঘুদের সমগ্র পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সমগ্র সম্প্রদায় সর্বত্রই উদ্বিগ্ন এবং ভীত। তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।”

বাংলাদেশে নৈরাজ্য চলছেই। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে, গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার প্রতিবাদে একদিকে যখন পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ-মিছিল চলছে, ঢাকাতেও প্রতিবাদে সরব হয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। শুক্রবার ঢাকার শহিদ মিনার চত্বর থেকে মশাল মিছিল করে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। ময়মনসিংহে নিহত দীপু দাসের বাড়িতে যান বাংলাদেশ ন্যাশনাল হিন্দু মহাজোটের সদস্যরা।

সোশাল মিডিয়ায় ধর্মীয় মন্তব্যের অভিযোগ তুলে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল হিন্দু যুবককে। সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ পাননি। এরই মধ্যে সামনে এসেছে দুষ্কৃতীদের নৃশংসতার আরও এক হাড়হিম করা নজির! রাজবাড়ি এলাকায় ফের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। যদিও বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে দাবি, হোসেনডাঙা পুরাতন বাজার এলাকায় এক ব্যক্তির থেকে তোলা দাবি করেন অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট। অভিযোগ, রাজি না হওয়ায় দলবল নিয়ে গিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন। সেইসময়ই আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। সম্রাটকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্য়ু হয়।

(Feed Source: abplive.com)