
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী উসমান হাদি হত্যা মামলায় বড় তথ্য সামনে এসেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ অপরাধের পর ভারতে পালিয়ে গেছে।
কিভাবে ভারতের সীমান্ত পাড়ি দেওয়া যায়?
অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সন্দেহভাজনরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সীমান্ত পার হওয়ার পর ‘পূর্তি’ নামে এক ব্যক্তি তাদের রিসিভ করেন। এরপর ‘সামি’ নামের এক ট্যাক্সিচালক তাকে মেঘালয়ের তুরা শহরে নিয়ে যান।
পুলিশ তথ্য পেয়েছে যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজনদের সাহায্যকারী দুই ব্যক্তিকে (পূর্তি এবং সামি) হেফাজতে নিয়েছে, যদিও এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ওসমান হাদী কে ছিলেন?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ওসমান হাদী ছিলেন এক উঠতি মুখ। তিনি জুলাই বিদ্রোহের (ছাত্র আন্দোলন) অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন যা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটায়। তিনি ভারত ও আওয়ামী লীগের একজন সোচ্চার প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে তার নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন এবং 2026 সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
হাদির হত্যা এবং পরবর্তী সহিংসতা
12 ডিসেম্বর, ঢাকায় মুখোশধারী হামলাকারীরা হাদির মাথায় গুলি করে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান, এরপর সারা বাংলাদেশে দাঙ্গা শুরু হয়।
বিক্ষুব্ধ জনতা ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ও ‘প্রথম আলো’র মতো সংবাদপত্র এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই অস্থিরতার সময় ময়মনসিংহে এক হিন্দু কারখানার শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যর্পণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে
বাংলাদেশ সরকার এখন ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন যে তারা আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয় মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন যাতে তাদের আইনের সামনে আনা যায়।
(Feed Source: prabhasakshi.com)
