
অস্ট্রেলিয়া ১৫২ ও ১৩২
ইংল্যান্ড ১১০ ও ১৭৮/৬
ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: জশ টাং (ইংল্যান্ড) ৫/৪৫ এবং ২/৪৪
সিরিজ স্টেটাস: চলতি ৫ ম্যাচের অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ৫৪৬৮ দিনের খরা কাটল। প্রায় ১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ইংল্যান্ড অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিতল! অনেকেই যে জয়কে মিরাকল হিসেবে দেখছেন। চলতি ৫ ম্যাচের অ্যাশেজ (Ashes 2025–26) টেস্ট সিরিজের চতুর্থ টেস্ট ২ দিনেই শেষ হয়ে গেল আইকনিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। শনিবার ২৭ ডিসেম্বর টেস্টের দ্বিতীয় দিন। চতুর্থ ইনিংসে ১৭৫ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ৩২.২ ওভারেই কাজের কাজটি করে ফেলে এবং চার উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। ইংল্যান্ডের জয় প্রকৃত অর্থেই ঐতিহাসিক। ১৯৬৩ সালের পর এই এমসিজি-তে এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে ইংরেজদের প্রথম সফল রান তাড়া করে জয়।
১৮ টেস্টের পর ইংল্যান্ডের প্রথম জয় ক্যাঙারুদের দেশে।
বিতর্কিত বাজবল অবশেষে জিতল
ইংল্যান্ডের বিতর্কিত ‘বাজবল ক্রিকেট’ অবশেষে ডিভিডেন্ড দিল। বেন ডাকেট এবং জ্যাক ক্রলির ওপেনিং জুটি মাত্র ৪২ বলে ৫১ রান যোগ করে দ্রুত রানের ব্যবধান কমিয়ে আনে। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ১১০ রানে অলআউট হওয়ার পর এই জুটি যত বেশি সম্ভব রান করার স্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল। ডাকেট (২৬ বলে ৩৪) মিচেল স্টার্কের একটি ট্রেডমার্ক ইয়র্কারে বোল্ড হলেও, ক্রলি (৪৮ বলে ৩৭) স্কোরবোর্ড সচল রাখেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে এই যাত্রায় হতাশ করেন। জ্যাকব বেথেলও তার সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন ৪৬ বলে ৪০ রানের সাহসী ইনিংস খেলে। যা তাঁর দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে আসে।
দ্বিতীয় দিনেও উইকেটের পতন অব্যাহত
জো রুট (১৫) এবং বেন স্টোকসের (২) মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে, ব্রিটিশদের সাজঘর কিছুটা লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল অজিরা। কারণ তখনও সফরকারীদের জয়ের জন্য ১০ রান প্রয়োজন ছিল। তবে হ্যারি ব্রুক (২২ বলে ১৮*) রান তাড়া করতে গিয়ে আর কোনও বিপত্তি ঘটতে দেননি এবং দলকে জয় এনে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ৭ জানুয়ারি ২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয় পেল। যখন তারা সিডনিতে অস্ট্রেলিয়াকে এক ইনিংস ও ৮৩ রানে পরাজিত করে অ্যাশেজ সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল।
মধ্যাহ্ণ ভোজের আগে ঘটনার ঘনঘটা
এর আগে এদিন স্কট বোল্যান্ড এবং ট্র্যাভিস হেড ৪ রানে তাদের ইনিংস শুরু করেছিলেন। এই জুটি ২২ রান করতে পেরেছিল। এরপরই গাস অ্যাটকিনসন বোল্যান্ডের ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটরক্ষক জেমি স্মিথের হাতে ক্যাচ ওঠাতে বাধ্য করেন। তিনে নামা জেক ওয়েদারাল্ড (৫) বেন স্টোকসের বল বুঝতে ভুল করে নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন। মারনাস লাবুশেনও (৮) উল্লেখযোগ্য কোনও অবদান রাখতে পারেননি। জশ টাংয়ের বলে প্রথম স্লিপে জো রুটের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। যিনি একটি দুর্দান্ত নীচু ক্যাচ তালুবন্দি করেন। তবে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লাবুশানেকে রীতিমতো হতাশ দেখাচ্ছিল। তিনি ক্যাচের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। যখন একের পর এক উইকেট পড়ছিল, তখন হেড আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৪৬ রানে পৌঁছে যান। কিন্তু ব্রাইডন কার্সের (৪/৩৪) একটি অসাধারণ ডেলিভারিতে তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। উসমান খোয়াজা তারপরেই আউট হয়ে যান। জশ টাংয়ের (২/৪৪) বাউন্সারে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে মাত্র দু’ বল খেলেই বিদায় নেন। এরপর কার্স অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন এবং প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়া ৯৮ রানে হাফ ডজন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ ব্রেকে যায়
বিতর্কিত পিচ নিয়ে প্রশ্ন
ক্যামেরন গ্রিন (২৯ বলে ১৯) এবং স্টিভ স্মিথ (৩৯ বলে ২৪) ৩১ রানের জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বেন স্টোকসের (৩/২৪) দুর্দান্ত বোলিং তাঁদের জুটি ভেঙে দেয় এবং এরপরই উইকেটের পতন শুরু হয়। কার্স এবং স্টোকস শেষ পর্যন্ত টেল-এন্ডারদের দ্রুত আউট করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৩২ রানে অলআউট করে দেন। ম্যাচটি দু’দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পিচ এখন আলোচনার বিষয়। প্রথম দিনেই ২০ উইকেটের পতন হয়েছিল! যা ১৯৫১ সালে অ্যাডিলেড ওভালে ২২ উইকেট পতনের পর অস্ট্রেলিয়ায় একদিনে সর্বোধিক। দ্বিতীয় দিনেও উইকেটের পতন অব্যাহত থাকে এবং আরও ১৬ উইকেট পড়ে। পার্থে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টেও প্রথম দিনে ১৯ উইকেট পড়েছিল এবং ম্যাচ দু’দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
চাকরি কি বাঁচল কোচের?
এখনও পর্যন্ত অ্যাশেজ সিরিজে ২০ দিনের মধ্যে মাত্র ১৩ দিন খেলা হয়েছে। সিরিজের শেষ ম্যাচ ৪ থেকে ৮ জানুয়ারি সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে। ০-৫ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পেরেছে ইংল্যান্ড। এখন স্টোকসরা চাইবেন সিডনি টেস্ট জিতে সিরিজ ভালোভাবে শেষ করতে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজটি ৪-১ ব্যবধানে শেষ করতে চাইবে। ইংল্যান্ডের হেড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালামের কোচিংয়ে স্টোকসরা পরপর তিন টেস্ট হেরেছে। যার ফলে তাঁর চাকরি নিয়ে রীতিমতো টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রাক্তন ব্রিটিশ ক্রিকেটার মন্টি পানেসার সাফ বলে দিয়েছিলেন যে, তাঁর দেশকে বাঁচাতে অবিলম্বে রবি শাস্ত্রীকে কোচ করে ম্যাকালামকে ছাঁটাই করা হোক। কোচের ‘বাজবল’ ক্রিকেটও চূড়ান্ত সমালোচিত হয়েছে। তবে আপাতত ম্যাকালামের চাকরি ও বাজবল বাঁচল বলেই মনে করা হচ্ছে!
(Feed Source: zeenews.com)
