জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার (Bangladesh Violence) ঘটনা থামছেই না। গত রবিবার রাতে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় দুই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে (Attacks on Hindu’s in Bangladesh)। এই ভয়াবহ হামলায় বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে পরিবার দুটির সদস্যরা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হিংসার ঘটনায় এবার লালমনিরহাটে (Bangladesh Lalmonirhat) একটি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের (Targeted mob sets Hindu family’s home ablaze) ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে চালানো এই পরিকল্পিত হামলায় বাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরিবারের সদস্যরা কোনওমতে প্রাণে বেঁচে গেছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের একটি গ্রামে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়। লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে যখন পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন দুর্বৃত্তরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা দেখে বাড়ির সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায় এবং তারা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। গ্রামবাসী ও প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ঘরের আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় হিন্দু নেতাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত বা ‘টার্গেটেড’ হামলা। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের ওপর যে হামলার ধারা চলছে, এটি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারটির অভিযোগ, তাদের আতঙ্কিত করতেই দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
অল্পের জন্য রক্ষা
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য জানান, যদি আর কয়েক মিনিট দেরি হতো, তবে ঘরের ভেতরেই তাদের মৃত্যু হতে পারত। কেবল ঘরবাড়ি নয়, তাদের গবাদি পশু এবং সারা বছরের সঞ্চিত ফসলও এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারই এখন তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। পুলিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের আশ্বাস দিলেও এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতার বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই ধরনের হামলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বড় আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন ন্যায়বিচার এবং স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের লক্ষ্যভ্রষ্ট হামলার ঘটনা বারবার ঘটছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অশান্ত বাংলাদেশ
ওদিকে, ছাত্রনেতা ওসমান হাদির খুনের পর বাংলাদেশের বিরাট অংশজুড়ে প্রবল গোলমাল শুরু হয়ে যায়। তারপরই গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে পিটিয়ে খুন করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে। রটিয়ে দেওয়া হয় সে ইসলাম অবমাননাকর মন্তব্য করেছে। সেই অভিযোগেই তাতিয়ে দেয় জনতাকে। কিন্তু তার আগেও ঘটেছিল অনেককিছু। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে এসেছে হাড়হিম সেই কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী এক সর্বভারতীয় দৈনিকে বলেছেন, পায়োনিয়ার নিট ওয়ার্ক নামে এক কোম্পানিতে কাজ করতেন দীপু। অত্যন্ত কর্মঠ দীপু সম্প্রতি প্রমোশনের জন্য একটি পরীক্ষা দিয়েছিল। তার পরই প্রমোশন পেয়ে ফ্লোর ম্যানেজার থেকে সে সুপারভাইজার হয়ে যায় দীপু। আরও প্রমোশনই কারখানায় কর্মীদের অনেকের চক্ষুশূল করে তোলে দীপুকে। এর জেরেই দীপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমামনার গুজব রটিয়ে দেওয়া হয়।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ১৮ ডিসেম্বর দীপুকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে কারখানার কর্মীরা। তার পরেই তাকে কারখানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা উন্মত্ত জনতার হতে তুলে দেওয়া হয়। তারা দীপুরে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তার গোটা শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। জনতা দানবীয় আচরণ করছিল। এর মধ্য়ে তাকে কিছু লোক স্থানীয় থানায় নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্য়ু হয়। পরে তার দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
