সিএনএন-নিউজ১৮ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শোকাহত বাবা তরুণ প্রসাদ চাকমা বলেন যে তাঁর ছেলে জাতি-বর্ণবিদ্বেষমূলক নির্যাতনের শিকার হয়- এর জন্যেই তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
ত্রিপুরার ২৪ বছর বয়সী এমবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার বাবা, যিনি দেরাদুনে জাতিবিদ্বেষমূলক হামলার সময় ছুরিকাঘাতে মারা গিয়েছিলেন, তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন যাতে উত্তর-পূর্বের কোনও ব্যক্তি এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে না যান। সিএনএন-নিউজ১৮ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শোকাহত বাবা তরুণ প্রসাদ চাকমা বলেন যে তাঁর ছেলে জাতি-বর্ণবিদ্বেষমূলক নির্যাতনের শিকার হয়- এর জন্যেই তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অ্যাঞ্জেল যখন সবজি কিনতে বেরিয়েছিলেন তখন এই ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন যে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁর ছেলেকে জাতিবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করে। অ্যাঞ্জেল এর বিরোধিতা করলে তারা তাঁকে মারধর ও গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেলের বাবা তরুণবাবু বলেছেন “আমার ছেলে সবজি কিনতে গিয়েছিল। অভিযুক্তরা বাইকে করে এসেছিল। মূল অভিযুক্ত, যিনি দেরাদুনের বাসিন্দা, অন্যদের সঙ্গে জাতিগত গালিগালাজ করে। যখন অঞ্জেল বিরোধিতা করে, তখন তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের বাবা-মা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অ্যাঞ্জেল সেই সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তিনি জেলা প্রশাসন এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে দেরাদুনে বসবাসকারী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অ্যাঞ্জেলের কী হয়েছিল?
ত্রিপুরার উনাকোটি জেলার নন্দনগরের ২৪ বছর বয়সী এমবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমা দেরাদুনে বর্ণবিদ্বেষী হামলার সময় ছুরিকাঘাতে মারা যান। ৯ ডিসেম্বর একদল লোক অ্যাঞ্জেল এবং তার ছোট ভাই মাইকেলকে থামায়৷ সেখানেই তারা জাতি-বর্ণবিদ্বেষমূল গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ৷ এরই জেরে স্থানীয় বাজারটিতে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তরা “চিনা” বলে সম্বোধন করেছিল।
(Feed Source: news18.com)