
জানা গিয়েছে, কেনগেরির ওই পিজি- র দোতলায় ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এফআইআর অনুসারে, নন্দিনী তাঁর PUC- র পড়াশোনা শেষ করেছিলেন ২০১৮ সালে, বল্লারি থেকে। এরপর তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। RR Institute- এ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন নন্দিনী, যা অবস্থিত Hesaraghatta- তে। তবে অভিনয়ের প্রতি বরাবরই আগ্রহ ছিল তাঁর। ফলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে তিনি অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন রাজরাজেশ্বরী নগরে। ২০১৯ সাল থেকে কন্নড় সিরিয়ালে কাজ শুরু করেন নন্দিনী। একাধিক কন্নড় টেলিভিশন সিরিয়ালে কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। তখন থেকেই বেঙ্গালুরুতে পিজি- তে থাকা শুরু হয় নন্দিনীর। এরপর চলতি বছর (২০২৫ সাল) অগস্ট মাস থেকে বেঙ্গালুরুর কেনগেরির ওই পিজি- তে থাকা শুরু করেন অভিনেত্রী।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নন্দিনী তাঁর বন্ধু পুনীতের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তারপর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফিরে আসেন পিজিতে। এরপর ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন নন্দিনী। পুনীত এরপর ফোন করেন নন্দিনীকে, কিন্তু কোনও জবাব পান না। বারবার ফোনে না পেয়ে পিজি ম্যানেজারকে খবর দেন পুনীত। এরপর নন্দিনীর ঘরের দরজা ভাঙা হলে উদ্ধার হয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ। জানলার গ্রিল থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নন্দিনীকে, এমনটাই জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নন্দিনীর।
বাবার মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন নন্দিনী। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকায় ওই চাকরি করতে রাজি হননি তিনি। এই নিয়ে পরিবারে মনোমালিন্যও হয় বলে সূত্রের খবর। পুলিশ জানিয়েছেন, নন্দিনীর একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে অভিনেত্রী লিখেছিলেন তিনি সরকারি চাকরি করতে চান না। বরং অভিনয়েই নিজের কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তবে তাঁর এই অনুভূতি পরিবারের সদস্যরা বোঝেন না বলেও ডায়েরিতে নন্দিনী লিখেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নন্দিনীর মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, নন্দিনীর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে, তাঁদের কারও প্রতি সন্দেহ নেই।
(Feed Source: abplive.com)
