সলমনের ছবি নিয়ে আপত্তি চিনের? ‘ব্যাটল অফ গালওয়ানে’ তথ্য বিকৃতির অভিযোগ, ভারত বলল…

সলমনের ছবি নিয়ে আপত্তি চিনের? ‘ব্যাটল অফ গালওয়ানে’ তথ্য বিকৃতির অভিযোগ, ভারত বলল…
মুম্বই: জন্মদিনে মুক্তি পেয়েছে ‘Battle of Glwan’ ছবির টিজ়ার। সেই নিয়ে এবার বিতর্কে জড়ালেন বলিউড অভিনেতা সলমন খান। ছবিতে তথ্য বিকৃতির অভিযোগে সরব চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সেই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ‘শিল্পীর স্বাধীনতার’ স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করা হচ্ছে ভারতের তরফে। (Salman Khan’s Battle of Galwan)

গত ২৭ ডিসেম্বর ৬০-এ পা দিয়েছেন সলমন। আর ওই দিনই তাঁর আগামী ছবি ‘ব্যাটল অফ গালওয়ানে’র টিজ়ার মুক্তি পায়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের মধ্যে যে সংঘর্ষ বাধে, সেই কাহিনি অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে সলমনের ছবিটি। কিন্তু ছবির টিজ়ার সামনে আসার পরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। (Battle of Galwan)

চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম Global Times-এর অভিযোগ, ২০২০ সালের জুন মাসে যে ঘটনা ঘটে, সলমনের ছবি তার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তথ্যের বিকৃতি ঘটানো হয়েছে ছবিতে। ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর কাহিনিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উল্লেখ করে তারা। শুধু তাই নয়, সলমন যে কর্নেল বিক্কুমাল্লা সন্তোষ বাবুর চরিত্রে অভিনয় করছেন, তাঁঁর সাহসিকতাকেও রীতিমতো বিদ্রুপ করা হয়েছে। Global Times-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘বলিউড ছবি বড্ড বেশি বিনোদন নির্ভর, আবেগঘন চিত্রায়নের জন্যই পরিচিত। কিন্তু যত অতিরঞ্জিত করেই দেখানো হোক না কেন, নতুন করে ইতিহাস লেখা যাবে না। নিজের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি পিপল’স লিবারেশন আর্মির যে সঙ্কল্প, তা থেকে একচুলও টলানো যাবে না তাদের’।

লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার পশ্চিম দিক বরাবর, আকসাই চিনের কাছাকাছি অবস্থিত গালওয়ান উপত্যকা, যা ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত। কিন্তু Global Times-এর দাবি, গালওয়ান উপত্যকা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার যেদিকে অবস্থিত, তা চিনের অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় সেনা সেখানে ঢুকে আসাতেই ২০২০ সালে দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে বলে দাবি করেছে তারা। গালওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান প্রাণ হারান বলে দিল্লির তরফে আগেই স্বীকার করা হয়েছিল। প্রথমে কিছু না বললেও, পরবর্তীতে চার জনের মৃত্য়ুর কথা মেনে নেয় চিন। যদিও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘ভারত সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলকে বিপথে চালিত করতে, চিনাবাহিনীকে বদনাম করাই লক্ষ্য় ছিল তাদের’।

চিনা সামরিক বিশেষজ্ঞ সং ঝংপিং-কে উদ্ধৃত করে Global Times লেখে, ‘যত খুশি অতিরঞ্জিত করে দেখাক না কেন, একটি ছবি ‘চিনের’ দেশের পবিত্র ভূখণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারবে না’। গোটা ঘটনায় ভারতের তরফে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। চিত্রনির্মাতা অশোক পণ্ডিত বলেন, “কোনও ভারতীয় পরিচালক ছবি তৈরির সময় অবশ্যই খেয়াল রাখেন যাতে শত্রুদেশের মুখোশ খুলে দেওয়া যায়। আমরা যথেষ্ট মজবুত দেশ, আমাদের সেনা অত্যন্ত সাহসী, যারা দেশের জন্য লড়াই করে। Global Times নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।” অভিনেতা তথা প্রযোজক রাহুল মিত্রের কথায়, “যথেষ্ট গবেষণা করেই ছবি তৈরি করা হয়, কারণ চিত্রনাট্যের ভিত্তিই হল গবেষণা। অপূর্ব লাখিয়া এবং সলমন খান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নাম। ছবি তৈরির জন্য তাঁরা তথ্য বিকৃত করবেন বলে মনে হয় না আমার।”

ভারত সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত সরাসরি এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ ছবি তৈরিতে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। কোনও প্রশ্ন থাকলে, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই যেতে পারে। তবে ভারতে বাক্ স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত, শিল্প এবং শিল্পীর স্বাধীনতাও তার মধ্যেই পড়ে। শিল্পীর স্বাধীনতার আওতায় চিত্র নির্মাতারা নিজেদের পছন্দের ছবি তৈরি করতে পারেন।

তবে এই ছবি নিয়ে বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে গোড়া থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কারণ গালওয়ান সংঘর্ষকে ঘিরে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকলেও, চলতি বছরে সেই সমীকরণ বদলেছে অনেকটাই। শুল্ক-নীতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই ভারত ও চিন সহযোগিতামূলক সম্পর্কে বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। সেই আবহে সলমনের ছবিটি দুই দেশের সম্পর্ক ফের তিক্ত করে তুলতে পারে বলে গোড়াতেই মনে হয়েছিল অনেকের। তার পরই এই বিতর্ক। তবে সলমন এবং তাঁর প্রযোজনা সংস্থা, পরিচালক অপূর্ব এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।

(Feed Source: abplive.com)