Begum Khaleda Zia: ‘৩১ বছর আগে আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়েছিলেন খালেদা জিয়া! ওঁর মৃত্যুতে এবার আমার নির্বাসন কি ঘুচবে?’ :তসলিমা

Begum Khaleda Zia: ‘৩১ বছর আগে আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়েছিলেন খালেদা জিয়া! ওঁর মৃত্যুতে এবার আমার নির্বাসন কি ঘুচবে?’ :তসলিমা

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন (BNP Chairperson and Ex Prime Minister of Bangladesh) খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia Death News) প্রয়াণে যখন ওপার বাংলায় শোকের ছায়া, ঠিক তখনই চেনা মেজাজে বিঁধলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima nasrin)। খালেদা জিয়ার মৃত্যু কি তাঁর ৩১ বছরের নির্বাসনদণ্ডের অবসান ঘটাবে? এই প্রশ্ন তুলেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ‘লজ্জা’-র লেখিকা।

মঙ্গলবার সকালে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনাও অতীত শত্রুতা ভুলে খালেদার মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই প্রয়াণ সংবাদে শোক নয়, বরং নিজের তিন দশকের বঞ্চনা আর অপমানের খতিয়ান তুলে ধরলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

‘ব্যান’-এর রাজনীতি ও তসলিমা

খালেদা জিয়ার শাসনামলেই তসলিমার একের পর এক বই নিষিদ্ধ হয়েছিল বাংলাদেশে। মঙ্গলবার ফেসবুকে ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্টে সেই দিনলিপি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন লেখিকা। তাঁর দাবি:

১৯৯৩ সালে নিষিদ্ধ হয় ‘লজ্জা’।

২০০২ সালে ব্যান করা হয় ‘উতল হাওয়া’।

২০০৩ সালে ‘ক’ এবং ২০০৪ সালে ‘সেই সব অন্ধকার’ বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

তসলিমার সাফ কথা, ‘বেঁচে থাকাকালীন তিনি তো বাকস্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়ে বইগুলো থেকে ব্যান উঠিয়ে যাননি। তাঁর মৃত্যুই যদি এখন বাকস্বাধীনতাকে রক্ষা করে।’ এছাড়াও ১৯৯৪ সালে একজন ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবতাবাদী লেখকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রসঙ্গও নতুন করে উঠে এসেছে। তসলিমার আরও দাবি, সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, খালেদা জিয়ার শাসনামলে তাঁকে দেশে ফিরতেও দেওয়া হয়নি।

নির্বাসনের যন্ত্রণা ও জেহাদি প্রসঙ্গ

১৯৯৪ সালে তসলিমার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। লেখিকার অভিযোগ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ধর্মনিরপেক্ষ ও মুক্তচিন্তার মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে জেহাদিদের পক্ষ নিয়েছিলেন। সেই ঝোড়ো সময়েই দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে বিদেশের মাটিতে যাযাবর জীবন কাটাচ্ছেন তসলিমা। আজ খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তাঁর প্রশ্ন, “তাঁর মৃত্যু কি আমার ৩১ বছরের নির্বাসনদণ্ডের সমাপ্তি ঘটাবে? নাকি এক শাসকের অন্যায় আরেক শাসক যুগের পর যুগ বহন করে চলবেন?”

আবেগহীন মূল্যায়ন

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কোনও বাড়তি আবেগ দেখাননি তসলিমা। তিনি লিখেছেন, ‘তিনি একটি সফল ও দীর্ঘ জীবন যাপন করেছেন। শেখ হাসিনা তাঁকে দু’বছর জেলে রেখেছিলেন, সেই সময়টুকু ছাড়া ১৯৮১ সালের পর থেকে তাঁর দুর্ভোগ বলতে কিছু ছিল বলে আমার মনে হয় না। অসুখ-বিসুখ সবারই থাকে, তাঁরও ছিল।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বড় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। কিন্তু তসলিমা নাসরিনের মতো মুক্তমনা লেখিকাদের মনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল তাঁর শাসনামলে, তা আজও টাটকা। এখন দেখার, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই আবহে তসলিমার বইয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠে কি না, কিংবা তাঁর দেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হয় কি না

(Feed Source: zeenews.com)