
সোমবার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ‘সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড’ নামের জামা-কাপড়ের কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন ৪২ বছর বয়সি বজেন্দ্র বিশ্বাস। বজেন্দ্র বাংলাদেশ আনসার ও ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ANSAR-VDP)-র সদস্য ছিলেন। নোমান মিয়াঁ নামের ২৯ বছর বয়সি এক যুবকের বন্ধুক থেকে বজেন্দ্রকে গুলি লাগে বলে জানা গিয়েছে। নোমান নিজেও আনসারের সদস্য। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। (Bangladesh Updates)
বাংলাদেশে আনসার বাহিনী আসলে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায়, সরকারি দফতর, বেসরকারি কারখানা, শিল্প সংস্থার নিরাপত্তারক্ষায় মোতায়েন করা হয় আনসার বাহিনীকে। সরকারের দেওয়া হাতিয়ার নিয়েই সশস্ত্র ডিউটিতে যোগ দেন আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
বজেন্দ্রর মৃত্যু নিয়ে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বজেন্দ্র এবং নোমান, দু’জনেই ডিউটি করছিলেন। কারখানার মধ্যে আনসার বারাকে মোতায়েন ছিলেন তাঁরা। দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা চলাকালীন হঠাৎ বজেন্দ্রকে লক্ষ্য করে সরকারের দেওয়া শটগান তাক করেন নোমান। রসিকতা করেই বন্দুক তাক করেন নোমান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে গুলি বেরিয়ে যায়। বজেন্দ্রর বাম উরুতে গুলি লাগে। ভালুকা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় বজেন্দ্রকে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁকে।
সেখানকার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ জহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শটগানটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। বজেন্দ্রর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে। ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদে’র সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্রনাথ এই ঘটনায় সিলমোহর গিয়েছেন।
An Ansar member named Bajendra Biswas (40) was killed after being shot by a colleague in Bhaluka upazila of Mymensingh. The accused Ansar member, Noman Mia, has been arrested, reports Bangladesh Media
“Yes, the incident is confirmed”, Monindra Nath, Acting Secretary General of…
— ANI (@ANI) December 30, 2025
সত্যি সত্যিই দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু হয়েছে বজেন্দ্রর, না কি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাঁকে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে গত দু’সপ্তাহে এই নিয়ে তিন জন হিন্দুর মর্মান্তিক পরিণতি হল বাংলাদেশে। গত ১৮ ডিসেম্বর ভালুকাতেই দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করা হয়। বেধড়ক মারধরের পর নগ্ন করে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে তাঁর সঙ্গে নৃশংস আচরণ করে উন্মত্ত ভিড়। এর পর ময়মনসিংহের বাইরে আর এক হিন্দুকে পিটিয়ে মারা হয়। বাংলাদেশ সরকার এগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দায় এড়ালেও, পর পর হিন্দুদের মৃত্যুতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
(Feed Source: abplive.com)
