
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এক দিকে যখন নতুন বছরে উৎসবে মাতেছে গোটা দেশ ঠিক তখনই অন্ধ্রপ্রদেশের তিন শিশুকে হত্যা। এই হত্যার কারণ হল একটাই পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট। পুলিশ জানিয়েছে বুধবার রাতে এক ব্যক্তি খুন করে নিজেই আত্মহত্যা করলেন।শুধু তাই নয়, জানলে অবাক হবেন সেই শিশুর হত্যাকারী হলেন তাদের বাবা। এই ঘটনায় গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম ভেমুলাপাটি সুরেন্দ্র । তিনি তাঁর সাত, চার ও দুই বছর বয়সি তিন সন্তান কাভ্যাশ্রী, জ্ঞানেশ্বরী ও সূর্য গগনকে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, স্ত্রীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সুরেন্দ্র। তাঁর স্ত্রী মহেশ্বরী গত বছর আগস্ট মাসে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। সেই থেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পারিবারিক অশান্তি ও আর্থিক অনটনও তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ঘটনার দিন রাতে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, সুরেন্দ্র সাধারণত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন, তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি একেবারে বদলে গিয়েছিলেন। তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ফের একবার সামনে এনে দিল মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারে হঠাৎ কোনও সদস্যের মৃত্যু বা আর্থিক সংকট অনেক সময় মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সহানুভূতি, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
নন্দ্যালের এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের কাছে এক বড় সতর্কবার্তা। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই করুণ পরিণতি।
(Feed Source: zeenews.com)
