Groke AI obscene content: ভারতে কি বন্ধ হয়ে যাবে ট্যুইটার? AI-এর আড়ালে অশ্লীলতা ও যৌন হেনস্থায় X-কে কেন্দ্রের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি…

Groke AI obscene content: ভারতে কি বন্ধ হয়ে যাবে ট্যুইটার? AI-এর আড়ালে অশ্লীলতা ও যৌন হেনস্থায় X-কে কেন্দ্রের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর অপব্যবহার রুখতে এবার বেনজিরভাবে কঠোর অবস্থান নিল ভারত সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X handle)-এর এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok)-এর মাধ্যমে মহিলাদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরির গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, মন্ত্রকের তরফে এক্স কর্পকে একটি চার পাতার কড়া নোটিস পাঠিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের মূলে গ্রোক: অভিযোগ ও সাংসদের তৎপরতা

ঘটনার সূত্রপাত গ্রোক চ্যাটবটটির একটি আপত্তিকর ফিচারের অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবহারকারীদের অনুরোধে এই চ্যাটবটটি মহিলাদের ছবির পোশাক পরিবর্তন করা বা সরিয়ে ফেলার মতো কুরুচিকর ও অশ্লীল কাজ করছে। বিষয়টি নজরে আসতেই শিবসেনা (ইউবিটি)-র রাজ্যসভার সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এদিন সকালেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি চিঠি লিখে এই ডিজিটাল হেনস্থার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ ছিল, গ্রোকের মতো উন্নত প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে মহিলাদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের কড়া অবস্থান ও নোটিস

সাংসদের চিঠির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় হয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। এক্স-এর চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসারকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ‘গ্রোক’ ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মহিলাদের অশ্লীল কন্টেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও শেয়ার করা হচ্ছে। এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০ এবং আইটি রুলস ২০২১-এর চরম লঙ্ঘন।

মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মটি তাদের এআই মডেলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ বা ‘সেফগার্ড’ রাখেনি, যা অন্যান্য বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি করে থাকে। মাস্ক অতীতে গ্রোকের ‘ফিল্টারহীন’ উত্তরের প্রশংসা করলেও, ভারতের মাটিতে দেশের আইন মেনে চলা যে ‘ঐচ্ছিক নয়’, তা কঠোর ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছে সরকার।

৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ও রিপোর্টের দাবি

সরকার আগামী সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এক্স-কে তাদের পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। এই রিপোর্টে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

১. গৃহীত পদক্ষেপ: আপত্তিকর কন্টেন্ট সরাতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

২. কমপ্লায়েন্স অফিসারের ভূমিকা: ভারতের আইনি কাঠামো মানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের ভূমিকা কী ছিল?

৩. বিএনএসএস (BNSS) মান্যতা: ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং করা হচ্ছে কি না।

আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি

মন্ত্রক হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায়, তবে আইটি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে এক্স-এর প্রাপ্ত ‘সেফ হারবার’ সুবিধা (যাতে প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর পোস্টের জন্য সংস্থা দায়ী থাকে না) প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মটি আইনি রক্ষাকবচ হারাবে এবং এর আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), নারীর অশালীন উপস্থাপন প্রতিরোধ আইন এবং পকসো (POCSO) আইনের আওতায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

প্রশাসন ও মন্ত্রীর বক্তব্য

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এদিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা কন্টেন্টের জন্য পূর্ণ “দায়বদ্ধতা গ্রহণ” করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল কন্টেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের সুপারিশ করেছে।

প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, এই ধরনের এআই কন্টেন্ট সমাজে যৌন হেনস্থাকে এক প্রকার ‘স্বাভাবিক’ করে তোলার কুৎসিত প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। তাই এক্স-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা গ্রোকের প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং প্রশাসনিক নীতি (Technical and Governance Framework) সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করে এবং নিয়মভঙ্গকারী অ্যাকাউন্টগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে কন্টেন্ট সরানোর সময় কোনোভাবেই যেন ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট না হয়, সেদিকেও নজর রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এআই প্রযুক্তির জয়যাত্রা যেমন নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, তেমনই গ্রোকের মতো পরিষেবার অপব্যবহার মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রের এই কড়া নোটিস কেবল এক্স-এর জন্য নয়, বরং সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্যই একটি সতর্কবার্তা। আগামী সোমবারের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই বোঝা যাবে, ভারতের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারী মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে সরকার কতটা কঠোর হতে চলেছে।

(Feed Source: zeenews.com)