Kaushik Ganguly: ৩ বছর পরেও বাকি জুনিয়র আর্টিস্টদের পারিশ্রমিকের ৩.২০ লক্ষ টাকা, ক্ষোভের মুখে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়…

Kaushik Ganguly: ৩ বছর পরেও বাকি জুনিয়র আর্টিস্টদের পারিশ্রমিকের ৩.২০ লক্ষ টাকা, ক্ষোভের মুখে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে যখন টলিপাড়া উৎসবে মুখর, তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অনভিপ্রেত ঘটনায় জড়ালেন বিশিষ্ট পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় (Kaushik Ganguly)। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি নিজের কাজের দর্শন ও আগামীর ভাবনার কথা শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু সেই শুভেচ্ছাবার্তার কমেন্ট বক্সেই জনৈক নেটিজেনের অভিযোগে তালভঙ্গ হলো উৎসবের মেজাজের।

জনৈক নেটিজেন অভিযোগ তোলেন যে, বছর তিনেক আগে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালিত ‘অসুখ বিসুখ’ ছবিতে কাজ করেও জুনিয়র আর্টিস্টদের ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক মেটানো হয়নি। তাঁর দাবি, বিলটি বর্তমানে এক স্বনামধন্য হাউসের কাছে আটকে রয়েছে। পরিচালকের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন ছোঁড়েন, “এটা নিয়ে ভাবনা কি একটু হলেও আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?”

অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নীরবতা ভেঙেছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, উক্ত প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তিনি আর কোনো কাজ করেননি। তিনি আরও খোলসা করেন যে, ওই সংস্থা ছবিটি অন্য কাউকে বিক্রি করে দিয়ে চলে গেছে এবং প্রথম প্রযোজককে তিনি নিজেও যোগাযোগ করে পাননি। কৌশিকের মন্তব্য, “তার কাছে আপনার মতো আমারও বিস্তর পাওনা! আমরা দুজনেই প্রার্থনা করি যদি কপালে জোটে ঐ টাকা!”

নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিচালক লেখেন, “আমি ভীড় জাহাজ থেকে চুপ করে নেমে গেছি অনেকদিন আগেই। তবে খরস্রোতা জলের টান আমার রক্তে । ভাসতে হবেই, যতক্ষণ… যতদিন…! তাই নিজের একটা নৌকো বানিয়ে রওনা দিয়েছি স্বজনদের নিয়ে। প্রিয়জনেরা ভালোবেসে আপ্রাণ দাঁড় টানছে, আর আমি হালে পানি পেলেই গন্তব্যের দিক বজায় রাখছি। ২০২৫শের ঘাট পাশ দিয়ে পিছিয়ে গেছে গতকালই । ২৬শের দুকূল জুড়ে গল্প খোঁজার ও বলার কাজ আমার ও আমার পরিবারের। শান্তিপূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবন ও দর্শকদের বিনোদনের বারবার সুযোগ পাওয়া; এর বাইরে আর কোনো চাহিদা নেই । আমাদের এই নৌকো স্বাধীন, সহজ, আপন ও মৌলিক। জোয়ার ভাটা সামলে নিজের গতিতে আমরা ঠিক পেরিয়ে যেতে থাকবো পরপর সময়-বাঁধানো ঘাটগুলো। ছোট ছোট জীবন, না খেয়াল করা চরিত্র বা কল্পনার অজানা জগতের গল্পের মধ্যে দিয়ে আজকের সামাজিক উচ্চারণ যেন বারবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেটাই লক্ষ্য। জীবনী তো ছাপার অক্ষরেও পড়া যায়, কিন্তু জীবনের গল্প নাটকে বা সিনেমার পর্দায় উপলব্ধির রূপ নেয়। সেখানেই দর্শকের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা পূরণ হয়। লঘু সঙ্গীত ও উচ্চাঙ্গ সংগীতের মতো সিনেমাতেও লঘু ও গুরু আঙ্গিকের সহাবস্থান খুব জরুরী। চলচ্চিত্রের দর্শক গ্রাম থেকে শহরে আরো জেগে উঠুক। সেই ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব নির্মাতারা সবাই সবার মতো আন্তরিকভাবে পালন করলেই ঠিক হবে। আমার উপলব্ধি, কোনো শিল্পকেই জবরদস্তি জনপ্রিয় করা যায়না, শিল্প আপনিই জনপ্রিয় হয়ে যায় মানুষের আবেগে ও আশ্রয়ে। তেমনই ইতিহাসও জোর করে মনমতো ভাবে লেখা যায়না, স্থায়ী ইতিহাস ঘটে যেতে থাকে চোখের আড়ালে, অজান্তেই। কাজেই আমাদের রুচি, শিক্ষা, মেধা ও দায়িত্ব অনুযায়ী সিনেমা বানানোর চেষ্টা করেই আমরা তৃপ্ত। আপনাদের শুভকামনা ও ভালোবাসা আমাদের ছোট্ট নৌকোর পালে হাওয়া হয়ে লেগে থাক এটুকুই কামনা এই নতুন বছরে”।

বিতর্ক সরিয়ে কৌশিক তাঁর পোস্টে আগামীর সৃজনশীল যাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৬-এ তাঁর লক্ষ্য হলো দর্শকদের শান্তিপূর্ণ বিনোদন দেওয়া এবং মৌলিক গল্পের মাধ্যমে সামাজিক উচ্চারণ স্পষ্ট করা। তাঁর মতে, কোনো শিল্পকেই জোর করে জনপ্রিয় করা যায় না, তা মানুষের আবেগেই জায়গা করে নেয়। বিতর্ক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত সৃজনশীলতার পালে হাওয়া লাগিয়েই এগিয়ে যেতে চান এই গুণী পরিচালক।

(Feed Source: zeenews.com)