
তৈল ও খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলা। লাতিন আমেরিকার ওই দেশের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল আমেরিকার বর্তমান ট্রাম্প সরকারের। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক কারবারে যুক্ত, সেখান থেকেই আমেরিকায় মাদক, নেশার বস্তু ঢুকছে। এমনকি জেলখানা খালি করে মাদুরো আমেরিকায় বেআইনি অভিবাসী চালান করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন। যদিও মাদুরোর দাবি ছিল, মিথ্যে অভিয়োগ করছেন ট্রাম্প। আসলে তাঁদের দেশের তৈলভাণ্ডার ও খনিজ সম্পদের দিকেই নজর তাঁর। (Donald Trump)
সেই আবহেই শনিবার ভোররাতে বাড়িতে ঢুকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকা। আমেরিকাতেই তাঁঁদের বিচার হবে বলে জানানো হয়। আর তার পরই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো থেকে বললেন, “যতদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা না ফিরছে, সঠিক ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা না যাচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত আমরাই দেশটা চালাব। আমরা চাই না আর কেউ এর মধ্যে ঢুকুক। আগেও দীর্ঘ সময় এই অবস্থাই বজায় ছিল। তাই আমরাই দেশটাকে চালাব।”
“Maduro and his wife will soon face the full might of American justice and stand trial on American soil.” – President Donald J. Trump 🇺🇸 pic.twitter.com/aFag9QOkpH
— The White House (@WhiteHouse) January 3, 2026
আমেরিকা কী করে অন্য দেশ চালাবে, সেদেশের সরকারের কী হবে, তা বিশদে খোলসা করেননি ট্রাম্প। আমেরিকা নিজের আইন সেখানে প্রয়োগ করবে, না কি আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে, তাও জানাননি পরিষ্কার ভাবে। তবে ভেনিজুয়েলার তেলের ভাণ্ডারের দখল যে আমেরিকার হাতেই থাকবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
আমেরিকার Fox News ভেনিজুয়েলার তৈলভাণ্ডার নিয়ে প্রশ্ন করে ট্রাম্পকে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বেশ ভালমতোই ইনভল্ভ হতে চলেছি। এটাই বলব। পৃথিবীতে তাবড় তৈল সংস্থা রয়েছে-বড়, মহান…আমরা সকলেই ইনভলভ হব।”
৬৩ বছর বয়সি মাদুরো একসময় বাস চালাতেন। মৃত্যুর আগে তাঁকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বেছে নেন ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ়। হুগোও আমেরিকার বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। আমেরিকা ভেনিজুয়েলার তৈলভাণ্ডার দখল করতে চায় বলে অভিযোগ তুলেছিলেন, যা পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম। মাদুরোও লাগাতার একই অভিযোগ তুলছিলেন। বৃহস্পতিবারই আমেরিকাকে শান্তিপূর্ণ বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেন তিনি। কোনও অভিযোগ অনুযোগ থাকলে আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তার ৪৮ ঘণ্টা পরই আমেরিকার হাতে বন্দি হলেন সস্ত্রীক মাদুরো।
(Feed Source: abplive.com)
