Umar Khalid Denied Bail in SC: দিল্লি হিংসা মামলায় ৫ জনের স্বস্তি, উমর খালিদ-শারজিল ইমামের জামিন নাকচ, কারণ…

Umar Khalid Denied Bail in SC: দিল্লি হিংসা মামলায় ৫ জনের স্বস্তি, উমর খালিদ-শারজিল ইমামের জামিন নাকচ, কারণ…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিনের পর দিন জামিনের আবেদন পিছিয়ে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টে মামলা ওঠার পরও কোনও সুরাহা হল না। দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন নাকচ করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলায় ৫ জনকে জামিন দেওয়া হলেও উমর ও শারজিলকে আটকে দিল আদালত। রায় দেওয়ার সময় আদালতের তরফে বলা হয়ে, জামিনের জন্য সবাইয়ের একইরকম বিচার করা যায় না।

সোমবার ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তরফে যাদের জামিন দেওয়া হয় তারা হলেন, গুলফিসা ফাতিমা, মিরান হায়দার, সিফ উর রহমান, মহম্মদ সালিম খান ও সাদাব আলম। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়ে এই দুজনের বিচারে বিলম্ব হয়েছে বলে তাদের বাড়তি সুবিধে দেওয়া যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিতারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের তরফে বলা হয়, ‘যে ধরনের অপরাধের অভিযোগ উঠেছে সেখানে অভিযুক্ত সবার ভূমিকা একই ছিল না। কে কতটা অপরাধে জড়িত, আদালতকে তা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিচার করে দেখতে হবে। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাউকে দীর্ঘ সময় বিচার শুরুর আগে আটকে রাখলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সঠিক কারণ বা যুক্তি দেখাতে হবে। জমা দেওয়া তথ্য-প্রমাণে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। এই অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর শর্তগুলো কার্যকর হচ্ছে। মামলার বর্তমান পর্যায়ে তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া সমীচীন বা যুক্তিসঙ্গত নয়।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে উমর খালিদদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।  সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের জামিন দিতে অস্বীকার করে আদালত। দিল্লি হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম।প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিন ধরে চলা এই দাঙ্গায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান (যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম) এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। ওই দাঙ্গা উসকে দেওয়ার পেছনে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে উমর খালিদ, শারজিল ইমাম এবং আম আদমি পার্টির সাবেক কাউন্সিলর তাহির হোসেন-সহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিস বারবার বলেছে যে, তাঁদের কর্মকাণ্ড হঠাত্ কোনও প্রতিবাদ ছিল না, বরং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার এক পরিকল্পিত চেষ্টা। তাঁরা ক্ষমতা পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা ভারতজুড়ে এক সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল।

দিল্লি পুলিসের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে লড়াই করেন কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, সিদ্ধার্থ দাভে, সালমান খুরশিদ এবং সিদ্ধার্থ লুথরার মতো প্রবীণ আইনজীবীরা।

জামিনের বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিশ যুক্তি দেয় যে, দাঙ্গাগুলো হঠাৎ ঘটেনি, বরং এটি ছিল ভারতের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করার লক্ষ্যে করা একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত এবং সুবিন্যস্ত’ ষড়যন্ত্রের ফল। তদন্তকারী পক্ষ দাবি করে যে, অভিযুক্ত সবাই একই পরিকল্পনার অংশ ছিলেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যা যা করা হয়েছে, তার জন্য তাঁরা সবাই সমানভাবে দায়ি।

(Feed Source: zeenews.com)