)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার (Venezuela) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তুলে নিয়ে নিউইয়র্কে নিয়ে আসার পর এবার কলম্বিয়া (Colombia) ও কিউবার (Cuba) সরকার নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)।
নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা
রবিবার রাতে প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাকালে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, দেশটিতে একজন অসুস্থ ব্যক্তি শাসন চালাচ্ছেন, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন সরবরাহ করতে পছন্দ করেন। ট্রাম্পের মতে, কলম্বিয়ার বর্তমান সরকার খুব বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। মনে করা হচ্ছে, লাতিন আমেরিকার এই অঞ্চলগুলিতে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা সৃষ্টি করেছে।
কিউবা কলম্বিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান?
সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, কলম্বিয়াতেও ভেনেজুয়েলার মতো মার্কিন সামরিক অভিযানের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তখন তিনি রহস্যজনকভাবে উত্তর দেন, ‘শুনতে ভালোই লাগছে’! প্রসঙ্গত, কলম্বিয়ার পাশাপাশি তিনি কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
কেন কিউবা?
ট্রাম্প মনে করেন, কিউবা বর্তমানে পতনের মুখেই রয়েছে। সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তার মতে, কিউবার আয়ের প্রধান উৎস ছিল ভেনেজুয়েলা এবং সেই দেশটির জ্বালানি তেল। যেহেতু ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে, সেহেতু কিউবার বর্তমান সরকারের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই তিনি মনে করেন।
‘ডেল্টা ফোর্স’
শনিবার মেক্সিকোর নিকটবর্তী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন এলিট ফোর্স ‘ডেল্টা ফোর্স’ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। তারা মাদুরোর অত্যন্ত সুরক্ষিত সেফ হাউস থেকে তাঁকে ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে দীর্ঘ ২১০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ এনেছে। ভেনেজুয়েলার নাটকীয় পরিবর্তনের পরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তেলের ভাণ্ডার
ভেনেজুয়েলা-কাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল সমালোচনা বিশ্ব জুড়ে। চিন, রাশিয়া, কলম্বিয়া, মেক্সিকো। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে একাধিক দেশ। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতও। এখানেই শেষ নয়, বিরোধিতা চরম আকার নিচ্ছে ট্রাম্পের নিজের দেশ আমেরিকাতেও। আমেরিকা অবশ্য ভেনেজুয়েলার মাদক সন্ত্রাসবাদকে ঢাল করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকৃত লক্ষ্য কী? এক এবং একমাত্র লক্ষ্য– তেলের ভাণ্ডার।
(Feed Source: zeenews.com)
