
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মর্মান্তিক মুম্বই! স্কুলের স্পোর্টস ডে, হইহই করে স্কুলের পড়ুয়ারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতে নামছে। এরই উল্লাসের মুহূর্তে এক ঝলকে বদলে গেল শোকে। ম্যারাথন দৌড়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করল ১৫ বছরের কিশোরী রোশনি গোস্বামী। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাণ হারাল রোশনি।
শনিবার মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার তালাসারি এলাকায় ভারতী একাডেমি ইংলিশ স্কুলে চলছিল স্পোর্টস ডে। দশম শ্রেণির ছাত্রী রোশনি ম্যারাথনে দৌড় শেষ করে তৃতীয় হয়। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ টিকল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দৌড় শেষ করার পরই রোশনির শ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। তিনি মাটিতে বসে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অচেতন হয়ে যান।
স্কুলের শিক্ষকরা দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তড়িঘড়ি করে একটি বেসরকারি গাড়িতে করে তাকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পৌঁছানোর আগেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্কুলের অধ্যক্ষ রাকেশ শর্মা জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, রোশনির হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে।
রোশনির মা সুনীতাবেন গোস্বামী জানান, সেদিন সকালে রোশনি স্বাভাবিকভাবেই ঘুম থেকে ওঠে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে টিফিন নিয়ে স্কুলে যায়। তিনি বলেন, ‘ম্যারাথনের আগে রোশনি আমার পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিয়েছিল। দুপুরে আমরা এমন এক খবর পেলাম, যা কল্পনার বাইরে।’
ঘোলওয়াড় পুলিস স্টেশন জানিয়েছে, এই ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। একজন পুলিস কর্মকর্তা বলেন, ‘অনুষ্ঠানে কিছু পুলিস সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
এই ঘটনায় কিছু স্থানীয় শিক্ষা আন্দোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, গরমের মধ্যে অনেক সময় স্কুলে কঠিন শারীরিক পরিশ্রমের খেলাধুলা আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স বা ইর্মাজেন্সি ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা থাকে না। তারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই বা তাদের শারীরিক সক্ষমতা, জলশূন্যতা ও পুষ্টির বিষয় না দেখেই দীর্ঘ দৌড়ে অংশ নিতে দেওয়া হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
