
অয়ন শর্মা: দিনের পর দিন ব্লাড প্রেসারের (High Blood Pressure Medicine) ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন। অথচ কোন কাজই করছে না। ভাবছেন চিকিৎসক তো লিখে দিচ্ছে ওষুধ তবুও কেন কাজে আসছে না। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনি যে ট্যাবলেটটি দোকান থেকে কিনেছেন,মূল সমস্যা সেখানেই। আপনি ভাবতেই পারবেন না, একেবারে সিল করা ট্যাবলেটের মোড়ক যার মধ্যে রয়েছে,গুণগত মানে ফেল করেছে এমন ব্লাড প্রেসার ওষুধ। যেগুলো নাকি,আর পাঁচটা ট্যাবলেট এর মত শক্ত ধরনের নয়। নরম প্রকৃতির, হাত দিয়ে চাপ দিলেই ভাঙার বদলে চেপ্টে যাবে।
নদীয়া জেলার একাধিক ওষুধের দোকান থেকে এমনই গুণগত মানে ফেল করা হাই ব্লাড প্রেসারের ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল এর ইন্সপেক্টররা। রাজ্যের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবে পরীক্ষার পর দেখা যায়, ওষুধ গুলির মধ্যে ব্লাড প্রেসার রুখে দেওয়ার মত কোন উপাদান নেই। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সতর্ক করলো রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল। প্রচুর পরিমাণে হাই ব্লাড প্রেসারের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করল নদীয়া জেলার ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা।
ডাক্তারদের মতে, ‘উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ শুধু মাত্র সেই সমস্যার জন্য নয়, বরং ডায়াবেটিস, কিডনি বা হার্টের রোগীর ক্ষেত্রেও খুব দরকারি ৷ যদি ওষুধে গুণমান ঠিক না-থাকে, তবে 40 দিনের কাজ 80 দিনে হবে ৷ এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে— স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় ৷’
এর আগে, সাধারণত জ্বর বা অসহ্য ব্যথায় চটজলদি আরাম পেতে এতদিন যে ওষুধের ওপর অনেকেই ভরসা করতেন, সেই নিমেসুলাইড (Nimesulide)-এর ওপর এবার বড়সড় নিষেধাজ্ঞা চাপাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (Health and Family welfare ministry)। মূলত জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ১০০ মিলিগ্রামের (100 mg) বেশি ডোজের নিমেসুলাইড ট্যাবলেট এবং সিরাপের উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ দেশজুড়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে, নিমেসুলাইড ওষুধের অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবদেহে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ লিভারের (যকৃৎ) অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়াও কিডনি বিকল হওয়া, পাকস্থলীতে আলসার এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির মতো গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।
নিমেসুলাইড নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ১৯৮৫ সালে ইতালিতে প্রথম এই ওষুধ চালু হলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো অনেক আগেই এটি নিষিদ্ধ করেছে। ভারতে ২০১১ সালে তদানীন্তন ইউপিএ-২ সরকার ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি নিষিদ্ধ করেছিল। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এর ব্যবহার চালু ছিল।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা সব ওষুধের গুণমান পরীক্ষার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে পালন করা হবে ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একেবারে সময়োপযোগী ৷ তবে, এ নিয়ে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না-ছড়ায়, তাও খেয়াল রাখতে হবে ৷ আর তার জন্য প্রতি মুহূর্তে এই ধরনের ওষুধগুলির গুণমান যাচাই করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা ৷
(Feed Source: zeenews.com)
