উন্মত্ত ভিড়ের কাছে তাড়া খেয়ে খালে ঝাঁপ, বাংলাদেশে বেঘোরে মৃত্যু হিন্দু যুবকের

উন্মত্ত ভিড়ের কাছে তাড়া খেয়ে খালে ঝাঁপ, বাংলাদেশে বেঘোরে মৃত্যু হিন্দু যুবকের
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে ফের বেঘোরে মৃত্যু সংখ্যালঘু হিন্দুর চোর সন্দেহে তাঁকে তারা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ এসে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর পর পর হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই ঘটনা তাতে নয়া সংযোজন। (Hindu Man Dies in Bangladesh)

মঙ্গলবার নবগাঁও থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। ২৫ বছর বয়সি মিঠুন সরকার মারা গিয়েছেন। বাংলাদেশের মিহাদেবপুরের নবগাঁওয়ের ভাণ্ডারপুর গ্রামের ঘটনা। জানা গিয়েছে, মিঠুনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। উন্মত্তদের একটি ভিড় তাড়া করতে শুরু করে তাঁকে। প্রাণে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দেন মিঠুন। খালের জলে রীতিমতো খাবি খেতে শুরু করেন তিনি। প্রাণে বাঁচতে সাহায্য়ের আর্তি জানান সেই অবস্থাতেই। কিন্তু তাঁকে সাহায্য় করতে এগিয়ে যায়নি কেউ। (Bangladesh News)

উন্মত্তদের হাত থেকে রক্ষা পেতে যে খালে ঝাঁপ দেন মিঠুন, সেই খালেই শেষ পর্যন্ত মারা যান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চকগৌরী বাজার এলাকার পুলিশ। সন্ধে নাগাদ খাল থেকে তুলে আনা হয় মিঠুনের দেহ। মিঠুনের বাবা পিঙ্কু সরকার। বাড়ির ছোট ছেলে ছিলেন মিঠুন। মিঠুন জলে ডুবে মারা গেলেও, কট্টরপন্থীরাই তাঁকে জলে ঝাঁপ দিতে বাধ্য় করেছিল বলে অভিযোগ উঠছে। কারণ এই নিয়ে পর পর বেশ কিছু এমন ঘটনা সামনে এল। চোর সন্দেহেই মিঠুনকে তাড়া করা হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তিনি আদৌ কোনও চুরির ঘটনায় যুক্ত ছিলেন কি না, পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। 

গণপিটুনি থেকে বাঁচতেই মিঠুন খালে ঝাঁপ দেন বলে জানা যাচ্ছে স্থানীয় সূত্রে। ডুবুরি নামিয়ে তাঁর দেহ তুলে আনা হয়। এই ঘটনায় শোকাহত মিঠুনের পরিবার। উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাতেও। যাদের জন্য এই ঘটনা ঘটল, তাদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করার আবেদন জানাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। 

তবে গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে পর পর হিন্দু যুবকদের উপর যে হামলার ঘটনা সামনে আসছে, তাতে মিঠুনের মৃত্যু নয়া সংযোজন। এই নিয়ে গত ১৯ দিনে সেখানে সাতজন সংখ্যালঘু হিন্দু প্রাণ হারালেন। বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সোমবারই পেশায় ব্যবসায়ী, একটি সংবাদপত্রের সম্পাদককে গুলি করে খুন করা হয়। ওই একই দিনে নরসিংদীতে মুদিখানা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। গত ৩ জানুয়ারি মারা যান খোকন দাস। তাঁকে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে দয় দুষ্কৃতীরা। সেই অবস্থায় পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

(Feed Source: abplive.com)