Trump Tariffs on India: রাশিয়া থেকে তেল কেনার মাশুল? এবার ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০% শুল্ক! ট্রাম্পের নয়া বিলে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত…

Trump Tariffs on India: রাশিয়া থেকে তেল কেনার মাশুল? এবার ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০% শুল্ক! ট্রাম্পের নয়া বিলে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত…

 

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া রণকৌশল। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ucrain War) অবসান ঘটাতে এবার চরম অর্থনৈতিক দাওয়াইয়ের পথে হাঁটতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump’s Tariff)। তাঁর কথা শোনেনি ভারত। রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও বন্ধ করেনি ভারত। ফলে এবার ভারতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। আর এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন, ব্রাজিলের মতো দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ (500% Tariffs on India) পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে হোয়াইট হাউজ।

মস্কোকে আর্থিক দিক থেকে পঙ্গু করে দিতে রাশিয়ার পাশাপাশি তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরেও নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে হোয়াইট হাউস (White House)। এই বিলটি কার্যকর হলে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর মার্কিন শুল্কের বোঝা আকাশচুম্বী হতে পারে। যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’কে শক্তিশালী করছে, তাদের সকলের উপর এই ট্যারিফ প্রযোজ্য। ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’-এ (রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা) সম্মতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদার বিশেষ করে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

লক্ষ্য পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’ স্তব্ধ করা

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল যৌথভাবে এই বিলটি তৈরি করেছেন। তাঁদের যুক্তি, ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল, গ্যাস ও ইউরেনিয়াম কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’কে শক্তিশালী করছে। নতুন এই বিল পাস হলে ট্রাম্প প্রশাসন সেইসব দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা পাবে। মূলত মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতেই এই অর্থনৈতিক অবরোধের পরিকল্পনা।

ভারতের ওপর প্রভাব ও ২৫ শতাংশের ‘জরিমানা’

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির এই কঠোর অবস্থানের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের ওপর। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ওয়াশিংটনের কথা না শোনায় ভারত ইতিমধ্যে মার্কিন শুল্কের কবলে পড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছিল, যাকে তিনি ‘রুশ তেল কেনার জরিমানা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমানে ভারত কিছু পণ্যে সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিচ্ছে। কিন্তু নয়া বিলটি পাস হলে এই শুল্কের পরিমাণ এক ধাক্কায় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্যে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিনেটর গ্রাহামের কড়া বার্তা

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই বিলে সম্মতি মিলেছে। তাঁর মতে, “এই বিল ট্রাম্পকে সেইসব দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেবে যারা পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগাচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন কংগ্রেসে এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হবে। ইউক্রেন যখন শান্তির জন্য ত্যাগের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন পুতিনকে দমাতে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সঠিক সময় বলেই মনে করছেন গ্রাহাম।

ব্রিকস দেশগুলোর ওপর নজরদারি

কেবল ভারত নয়, ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার রাডারে রয়েছে চীন ও ব্রাজিলও। এটি মূলত ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের পূর্ববর্তী হুমকিরই বাস্তব প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ডলারের বিকল্প খোঁজা বা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য বজায় রাখা—এই দুই কারণেই ওয়াশিংটনের রোষানলে পড়েছে এই দেশগুলো।

এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া, যাতে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হন।

আগামী সপ্তাহে এই বিল পাস হলে বিশ্ববাণিজ্যে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে রাশিয়ার ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা (Secondary Sanctions), অন্যদিকে বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বিশাল শুল্ক—এই সাঁড়াশি চাপে ভারত কীভাবে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে, এখন সেটাই দেখার।

(Feed Source: zeenews.com)