Vital Circular For School Teacher’s: ক্লাস ফেলে টিচারদের এতদিন BLO-এর ডিউটি করতে হয়েছে! এবার রাস্তায় নেমে গুণতে হবে কুকুর? ভাইরাল নির্দেশিকা…

Vital Circular For School Teacher’s: ক্লাস ফেলে টিচারদের এতদিন BLO-এর ডিউটি করতে হয়েছে! এবার রাস্তায় নেমে গুণতে হবে কুকুর? ভাইরাল নির্দেশিকা…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জনগণনা, বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে দায়িত্ব পালন, জাতিগত জনসুমারি থেকে নির্বাচনের ডিউটি— সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কাঁধে অ-শিক্ষাগত কাজের বোঝা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল, এক নজিরবিহীন এবং বিতর্কিত কাজ। বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (Bihar Sasaram Municipal Corporation) নির্দেশ দিয়েছে যে, স্কুল শিক্ষকদের এবার রাস্তায় নেমে পথকুকুরদের গণনা (School Teachers will count now Street Dogs) করতে হবে। এই বিচিত্র নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পুরসভার নির্দেশিকা ও দায়িত্বের বহর

সাসারাম পুরসভার কমিশনার বিকাশ কুমারের পক্ষ থেকে জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পুরসভা এলাকার অন্তর্গত সমস্ত স্কুলকে এই কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি স্কুল থেকে শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগ করতে হবে। এই নোডাল অফিসারের কাজ হবে স্থানীয় স্তরে পথকুকুর সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা প্রশাসনের সঙ্গে শেয়ার করা।

শিক্ষকদের কেবল কুকুর গুনলেই চলবে না, তাদের তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর রিপোর্ট জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:

১. স্কুল চত্বরে এবং তার আশেপাশে বর্তমানে কতগুলি পথকুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে।

২. ওই কুকুরগুলির বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন।

৩. এলাকায় পথকুকুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে বা তাদের সমস্যা সমাধানে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত।

পুরসভার দাবি, শিক্ষকদের দেওয়া এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শহরে ‘ডগ পাউন্ড’ বা কুকুরদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ

এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই বিহারের শিক্ষক সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ করা হয়েছিল ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা শেখানোর জন্য। কিন্তু এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ক্লাসরুমে যাওয়ার চেয়ে বাইরের কাজই বেশি করতে হচ্ছে। জনগণনা থেকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কাজ তো ছিলই, এখন আবার কুকুর গোনার কাজও আমাদের করতে হবে? এর চেয়ে ভালো আমাদের শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সরকারি পিয়নের কাজ দেওয়া হোক।’

শিক্ষকদের প্রধান অভিযোগ, এমনিতেই ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। তার ওপর বছরের সিংহভাগ সময় যদি জনগণনা বা ভোটার তালিকার কাজে ব্যয় হয়, তবে পাঠ্যক্রম শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এবার ‘কুকুর গণনা’র মতো অবাস্তব দায়িত্ব তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় পড়াশোনা পুরোপুরি ‘লাটে’ উঠবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

পুরসভা ও সমালোচকদের বক্তব্য

যদিও বিতর্কের মুখে পড়ে পিছু হটতে নারাজ সাসারাম পুরসভার কমিশনার বিকাশ কুমার। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নির্দেশিকা কোনও খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়।

বরং সরকারি গাইডলাইন এবং উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ মেনেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই শিক্ষকদের নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। তাঁদের মতে, পথকুকুর গণনা করা বা তাদের রক্ষণাবেক্ষণের দেখভাল করা মূলত পুরসভার নিজস্ব কর্মী অথবা প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের কাজ। শিক্ষকদের এই কাজে নামানো মানে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা এবং সরাসরি শিক্ষার অধিকার আইনের অবমাননা করা।

বিহারে শিক্ষকদের অ-শিক্ষাগত কাজে ব্যবহারের ইতিহাস দীর্ঘ। কিন্তু কুকুর গণনার এই সাম্প্রতিক নির্দেশিকা সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। পড়াশোনার মানোন্নয়নের বদলে শিক্ষকদের যদি রাস্তার পশু গণনায় ব্যস্ত রাখা হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার হাল কী হবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, শিক্ষকদের এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে সাসারাম পুরসভা তাদের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে কি না।

তবে, ভাইরাল হওয়া ‘স্কুলশিক্ষকদের দিয়ে কুকুর গোনা’ (Teachers Counting Dogs) সংক্রান্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করল দিল্লি শিক্ষা দফতর (Delhi Education Department)। এই ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি পুলিসের দ্বারস্থ হল দিল্লি ডিরেক্টরেট অফ এডুকেশন। সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নাকি রাস্তার কুকুর গোনার কাজ দেওয়া হয়েছিল— এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর বেদিথা রেড্ডি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এ ধরনের কোনও নির্দেশ বা সার্কুলার কখনও জারি করা হয়নি। এটা দফতরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সুপরিকল্পিত অপপ্রচার। রাজনৈতিক সমালোচনার নামে এ ধরনের মিথ্যাচার বরদাস্ত করা হবে না।’

(Feed Source: zeenews.com)