Iran Crisis: বিক্ষোভের মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, আমেরিকার উস্কানির মুখে পাল্টা মুখ খুললেন খামেইনি

Iran Crisis: বিক্ষোভের মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে, আমেরিকার উস্কানির মুখে পাল্টা মুখ খুললেন খামেইনি

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজুড়ে ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। সেই বিক্ষোভ দমন করতে পাল্টা স্টিম রোলার চালাচ্ছে ইরান সরকার। সরকারি দমনপীড়নে এখনওপর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তার মধ্যেই ক্রমাগত উসকানি  দিয়ে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত করার হুমকিও দিয়েছেন। এর মধ্য়েই আমেরিকার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি।

এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে খামেইনি সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমেরিকাকে। তিনি বলেছেন, দুনিয়ার অত্যাচারীদের শাস্তি হয়েছে। দুর্বৃত্তদের শাস্তি দেওয়া হবে।

খামেইনি লিখেছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, যিনি গোটা বিশ্বকে অত্যন্ত অহংকারের সঙ্গে দেখেন, তাঁর জেনে রাখা উচিত যে পৃথিবীর ইতিহাসে ফেরাউন, নমরুদ এবং মোহাম্মদ রেজা পাহলভির মতো অহংকারী শাসকরা ঠিক তখনই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলেন যখন তাদের দম্ভ বা অহংকার তুঙ্গে ছিল। তাঁরও পতন একইভাবে হবে।

দেশে বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় ইরান সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। গত শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যারা এই প্রতিবাদে অংশ নেবে তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানে এই অপরাধের শাস্তি সাধারণত মৃত্যুদণ্ড।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গত শনিবার টানা চৌদ্দতম দিনে গড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। প্রথম দিকে ইরান সরকার এই অস্থিরতা নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও, বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াতেই তারা সুর বদলেছে। আগে বিক্ষোভকারীদের কেবল ‘দাঙ্গাকারী’ বলা হলেও, এখন তাদের সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে সরকার।

ইরানের দাবি, এই অশান্তি উসকে দেওয়ার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে—সরকার দাবি করছে যে, যা শুরুতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছিল, বিদেশের উস্কানিতে সেটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হিংস করে তোলা হয়েছে। তাদের মতে, এটি আইনের লঙ্ঘন।

ট্রাম্প সরাসরি ইরানের এই আন্দোলনের প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, “ইরান স্বাধীনতার জন্য নতুন এক লড়াই দেখছে এবং ওয়াশিংটন তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।”

অন্যদিকে, কয়েক দশক পর পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন নির্বাসিত জীবনে থাকা ইরানের প্রাক্তন যুবরাজ রেজা পাহলভি। খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে অভূতপূর্ব গণজাগরণ তৈরি হয়েছে, তিনি তার প্রশংসা করেছেন।

আন্দোলনকারীদের চাঙ্গা করতে পাহলভি একটি ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে প্রযুক্তিগত, আর্থিক এবং কূটনৈতিক—সব ধরণের শক্তি ব্যবহার করা উচিত, যাতে তাদের কণ্ঠস্বর এবং ইচ্ছা পুরো পৃথিবী শুনতে ও দেখতে পায়।

গত ২৮শে ডিসেম্বর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এর মূল কারণ ছিল ইরানের মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর ব্যাপক পতন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে রিয়ালের মান এতটাই কমে গেছে যে, বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর দাম ১৪ লক্ষ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। শুরুতে অর্থনৈতিক কষ্টের প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলন শুরু হলেও, বর্তমানে এটি পুরো ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’-র তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২,৩০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

(Feed Source: zeenews.com)