Trump Acting President Venezuela: ডিকটেটরের জন্ম? আইনকানুন, রাষ্ট্রপুঞ্জের চোখরাঙানি টোকা মেরে উড়িয়ে ভেনেজুয়েলার নয়া প্রেসিডেন্ট লড়াইখ্যাপা ট্রাম্প

Trump Acting President Venezuela: ডিকটেটরের জন্ম? আইনকানুন, রাষ্ট্রপুঞ্জের চোখরাঙানি টোকা মেরে উড়িয়ে ভেনেজুয়েলার নয়া প্রেসিডেন্ট লড়াইখ্যাপা ট্রাম্প

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন সেনার অতর্কিত হামলায় মাদুরোকে (Nicolas Maduro) অন্যায় ভাবে গ্রেফতারের পরই আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার (Venezuela Unrest) রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। ওই ঘটনার পর ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়েছেন যেন তেন প্রকারেণ ভেনেজুয়েলার দখল নেবে আমেরিকা (US attack Venezuela)। আর এই আবহেই সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump announced himseld as interim President of Venezuela) তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) একটি এডিট করা ছবি শেয়ার করেছেন।

সেখানে তিনি নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করেছেন।  বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

১. ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও বিতর্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি এডিট করা ছবি পোস্ট করেছেন যা ইন্টারনেটে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে তাকে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বের আসনে কল্পনা করা হয়েছে। এটি কেবল একটি ছবি নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন বিশেষ বাহিনী কর্তৃক এক অভিযানে ভেনিজুয়েলার সাবেক শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই দেশটিতে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

২. ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্কের দাবি

যদিও পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে উত্তপ্ত, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত সুসমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি আসলে বেশ ভালো দিকেই যাচ্ছে। আমরা সেখানকার নেতৃত্বের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করছি এবং আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত এর ফল কী দাঁড়ায়’। কারাকাসের (ভেনেজুয়েলার রাজধানী) নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

৩. বিশাল তেলের চুক্তি এবং অর্থনৈতিক প্রভাব

ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার নতুন কর্তৃপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশাল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি জানান:

ক) ভেনিজুয়েলা ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।

খ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

গ) এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ঘ) ট্রাম্পের মতে, এই তেলের চালান ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে।

এই তেলের চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

৪. কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হস্তক্ষেপ

ট্রাম্প একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনও তেল বা অর্থ কিউবায় পাঠানো হবে না। দীর্ঘকাল ধরে কিউবা ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল, মার্কিন প্রশাসন তা ছিন্ন করতে বদ্ধপরিকর। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

৫. ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি বার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, দেশটিকে আর সন্ত্রাসবাদী বা অত্যাচারী শাসকদের হাতে জিম্মি থাকতে হবে না। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলাকে আর সেই সব গুন্ডা এবং চাঁদাবাজদের থেকে সুরক্ষার জন্য চিন্তা করতে হবে না যারা তাদের এতদিন ধরে বন্দি করে রেখেছিল। এখন ভেনিজুয়েলার পাশে রয়েছে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী সামরিক শক্তি—আমেরিকা। আমরা তাদের রক্ষা করবই।’

৬. বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলার সরকার কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। মাদক পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করার মাধ্যমে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে অত্যন্ত জোরালো।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এবং তেলের বিশাল চালান আমদানির সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষ মুক্তির আশা দেখছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার দাবিটি কূটনৈতিক মহলে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের ভারসাম্য ভবিষ্যতে কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

(Feed Source: zeenews.com)