
এই পরিস্থিতিতে ইরানি চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন এবং সুরক্ষিত লেনদেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রফতানিকারকদের আহ্বান জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টারস ফেডারেশন। এর পাশাপাশি ইরানি বাজারের জন্য অতিরিক্ত পণ্য মজুতের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে রাফতানিকারকদের। বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-‘২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল-নভেম্বরের মধ্যে ভারত ইরানে ৪৬৮.১০ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের বাসমতি চাল রফতানি করেছে। যার পরিমাণ ৫.৯৯ লক্ষ টন। প্রসঙ্গত, ইরান ভারতের বাসমতি চাল রফতানির শীর্ষ গন্তব্য।
কিন্তু বর্তমান আর্থিক বছরে ইরানে চলতে থাকা অস্থিরতার কারণে বরাত আসা, লেনদেন এবং সরবার সময়সূচির উপর ক্রমবর্ধমান চাপ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব এখন দেশীয় বাজারগুলিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহেই, প্রধান বাসমতি চালের দামে মারাত্মক পতন দেখা দিয়েছে। যা ক্রেতাদের দ্বিধা, চুক্তিতে বিলম্ব এবং রফতানিকারকদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বৃদ্ধির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশীয় বাজারে বাসমতির ১১২১ ভ্যারাইটির দাম কেজি প্রতি ৮৫ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকায় নেমে এসেছে। ১৫০৯ ও ১৭১৮ ভ্যারাইটির দাম কেজি প্রতি ৭০ টাকা থেকে কমে ৬৫ টাকা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের বাসমতি চালের অন্যতম ক্রেতা ইরান। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সে দেশে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে বাসমতির বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন IREF-এর সর্বভারতীয় সভাপতি প্রেম গর্গ।
গত তিন সপ্তাহব্যাপী অশান্তি ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ উঠছে। হাসপাতালে লাশের স্তূপ জমছে বলেও সামনে আসছে দাবি। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুসারে, নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭৮ জন মারা গিয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬০০ মানুষকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। টেলিফোন সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন। এই পরিস্থিতিতে রফতানিকারকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন IREF-এর সর্বভারতীয় সভাপতি । বিশেষ করে লেনদেন এবং সরবরাহের সময়সূচির ক্ষেত্রে। ফেডারেশন বলছে, আমদানিকারকরা বিরাজমান প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এবং ভারতে টাকা পাঠাতে তাঁদের অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন, যা রফতানিকারকদের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
(Feed Source: abplive.com)
