জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের বিক্ষোভকারী মানুষজনকে শাস্তি দিলে তোমার ‘খবর আছে’। একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় ইরানকে এমনটাই হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই ইরানে জনবিক্ষোভে পুলিসের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ২৪০৩ জনের। এই সংখ্য়া আরও বেশি হতে পারে। এরকম এক পরিস্থিতিতে ইরানের উপরে হামলে পড়েছে আমেরিকা। পাল্টা ফোঁস করেছে ইরান। ইরান সাংসদের স্পিকার বলেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েল হল ইরানের মানুষদের আসল খুনি।
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে, ইরান যদি আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ না করলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তারা ফাঁসি কার্যকর করে, তবে আপনারা তার পরিণতি হিসেবে বিশেষ কিছু দেখতে পাবেন।”
মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের আন্দোলনরত মানুষের উদ্দেশ্য বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিক মানুষ, আপনারা বিক্ষোভ-আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যান—সরকারি প্রতিষেঠানের দখল নিন। হত্যাকারী-নির্যাতনকারীদের নাম লিখে রাখুন। ওদের অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এই নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না।
ট্রাম্প ইরানি জনগণকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো “দখল” করার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের প্রাক্তন স্পিকার আলি লারিজানি সামাজিক মাধ্যম X-এ একটি কড়া বার্তা দেন। ইরানের সাবেক স্পিকার এবং বর্তমানে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্বরত লারিজানি তার এই বার্তার মাধ্যমে সরাসরি এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে ইরানের মিত্র দেশ রাশিয়াও তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই “বাহ্যিক হস্তক্ষেপের” তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ প্রশাসন স্পষ্ট করে বলেছে যে, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার বিষয়ে আমেরিকার দেওয়া হুমকিগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে যে, যারা দেশের অভ্যন্তরে বাইরে থেকে প্ররোচিত অশান্তিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি করতে চায়, তাদের এর ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রাখতে হবে। তারা আরও যোগ করেছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে।
(Feed Source: zeenews.com)
