
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সঙ্গে যাঁর অট্টহাসি আর বলিষ্ঠ উপস্থিতি বাঙালির মনে ভয় আর ভক্তির মিশ্রণ তৈরি করত, সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ ‘অসুর’ আজ চিরনিদ্রায়। প্রয়াত হলেন দূরদর্শনের প্রখ্যাত অভিনেতা অমল চৌধুরী। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পর্দার মহাপরাক্রমশালী অসুরের বাস্তব জীবনের লড়াইটা শেষ হলো এক নিদারুণ একাকীত্ব আর অভাবের অন্ধকারে।
নব্বইয়ের দশকে দূরদর্শনের মহালয়ার অনুষ্ঠানে অমল চৌধুরী ছিলেন এক অপরিহার্য নাম। তাঁর চওড়া বুক, পাকানো গোঁফ আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে দেবী দুর্গার লড়াই ছিল বাঙালির নস্টালজিয়া। কিন্তু সময়ের নিয়মে স্পটলাইটের আলো যত ম্লান হয়েছে, অমলবাবুর জীবনে ততই জাঁকিয়ে বসেছিল অর্থকষ্ট। জীবনের শেষ দিনগুলোয় তিনি ছবি এঁকে বা হাতের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন।
ব্যক্তিগত জীবনে অমলবাবু ছিলেন অকৃতদার। একে একে বাবা-মা ও ভাইবোনদের হারিয়ে শেষ কয়েক বছর অশোকনগরের সংহতি পার্কের একটি টিনের চালের ঘরেই তাঁর দিন কাটত। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা সত্ত্বেও কোনো সরকারি সাহায্য বা ইন্ডাস্ট্রি থেকে ডাক পাননি তিনি। বুধবার তাঁর ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর অরূপ দাসের উপস্থিতিতে পুলিশ দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করে।
অমল চৌধুরীর এই করুণ মৃত্যু ফের একবার বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের রূঢ় বাস্তবকে সামনে এনে দিল। পর্দায় যিনি অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়ের পথ প্রশস্ত করতেন, বাস্তবের নিষ্ঠুর অভাবের কাছে তাঁকে হার মানতে হলো। এলাকাবাসীর কান্নায় আজ অশোকনগরের বাতাস ভারী, কিন্তু বাঙালির ড্রয়িংরুমে মহালয়ার ভোরে অমল ‘অসুর’-এর সেই অট্টহাসি চিরকালই প্রতিধ্বনিত হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
