
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পায়ের তলায় যেন সরষে! ঘোরা ছিল তাঁর নেশা। ঘোরা ছিল তাঁর পেশাও। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। মাঝে মাঝে একটু ক্লান্ত, অবসন্ন লাগত ঠিক-ই… কিন্তু খুব একটা আমল দিতেন না ২৪-এর ঝকঝকে তরুণী। চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে শুধুই পৃথিবী দেখার আনন্দে মেতে ছিলেন। আর সেটাই কাল হল…
মাত্র ২৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত জনপ্রিয় ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ফায়ে গ্রীনউডের। মাসের পর মাস, দীর্ঘদিন ধরেই ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। সঙ্গে বুকেও ব্যথা হচ্ছিল। ছিল বমির মতো উপসর্গও। কিন্তু সবই উপেক্ষা করে যান ২৪ বছর বয়সী ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ফায়ে। আর তারপর তাঁকে গুনতে হল চড়া মাশুল। ট্রিপের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ফায়ে গ্রীনউড। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রক্তবমি করতে থাকেন। জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয় তাঁর। ফায়ের ঘটনায় চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ইয়ং মেয়েদের ক্ষেত্রে, কম বয়সে অস্বাভাবিক ও চরম ক্লান্তি হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আর তাকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়।
ফায়ের যখন হার্ট অ্যাটাক হয়, তখন তিনি প্যারিসে ঘুরছিলেন। ২৪ বছরের বয়সী তরুণী ফায়ে অসুস্থ বোধ করে নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে যান। এক সাক্ষাৎকারে ফায়ে বলেছেন,“হার্ট অ্যাটাকের দিন আমি ভীষণ ক্লান্ত বোধ করছিলাম। প্রায় সারাদিন ঘুমিয়েই কাটিয়েছিলাম। আমি মাঝে মাঝেই জ্ঞান হারাচ্ছিলাম। ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছিলাম না। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও নিজের সমস্যার কথা স্পষ্ট করে বলতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল।” কিন্তু ডাক্তার তখন উপস্থিত না থাকায় তাঁকে হোটেলে ফিরে যেতে বলা হয়। তারপরই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রাতে ঘুমের মাঝে উঠে তিনি রক্ত বমি করতে শুরু করেন। সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়। সঙ্গে সঙ্গে আবার হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। এরপরই তাঁর হার্টে স্টেন্ট বসাতে হয়। ফায়ে জানিয়েছেন, “এবার তাঁরা স্পষ্ট বুঝতে পারেন যে আমার পরিস্থিতি গুরুতর। আমার ধমনীতে ব্লকেজ ছিল, যার কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে স্টেন্ট বসানোর জন্য আমার অস্ত্রোপচার করা হয়।” ফায়ে জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরেই তিনি বুকে ব্যথা, মাঝে মাঝে বমি ও চরম ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। কিন্তু সবই উপেক্ষা করছিলেন। যার জন্য চড়া মাশুল গুনতে হয়েছে তাঁকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে কখনওই উপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণ হৃদ্যন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলেই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। যার ফলেই সামান্য কাজেও শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় আর অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
(Feed Source: abplive.com)
